স্থানীয় সংবাদদাতা
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভোরবেলায় বাড়িতে ঢুকে পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যদের পিটিয়ে আহত করার পর ছিনিয়ে নেওয়া হল আলমারির (সিন্দুক) চাবি। এরপর সংরক্ষিত একটি কক্ষের দরজার তালা কেটে লুট করা হয় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ আড়াই লাখ টাকা।
এ সময় বন্দুকের বাটসহ বিভিন্ন দেশিয় অস্ত্রের বেধড়ক পিটুনিতে আহত হন পরিবারের নারীসহ একাধিক সদস্য।
বাড়িতে ডাকাতি সেরে চলে যাওয়ার সময় স্থানীয় একটি মুদির দোকানেও ডাকাতির মাধ্যমে লুট করা হয় টাকাসহ মূল্যবান মালামাল।
গতকাল ৯ই জানুয়ারি, শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের নাথ পাড়া সংলগ্ন সাগর ধরের বাড়ি এবং স্থানীয় মিন্টু নাথের দোকানে দুর্ধর্ষ এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক সাগর ধর জানান, তার বাবা মারা গেছেন সম্প্রতি। এজন্য তাদের পরিবারে অশৌচকাল চলছে। বাবার মৃত্যুর পর ধর্মীয় রীতিমতো পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাদের বেশ প্রস্তুতি নিতে হচ্ছিল। এজন্য ব্যয় নির্বাহ করতে বাড়িতে রাখা হয় নগদ আড়াই লাখ টাকা। এছাড়া বাড়ির একটি সংরক্ষিত কক্ষের সিন্দুকে রক্ষিত ছিল ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার।
বাবার মৃত্যুর পর উত্তরীয় কাঁধে থাকা ভুক্তভোগী সাগর ধর বলেন- ভোরবেলা হঠাত্ ৫-৬ জনের একদল সশস্ত্র ডাকাত আমাদের বাড়িতে ঢুকে পরে। এই অবস্থায় কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাকে এলোপাতাড়ি পেটানো শুরু করে এবং সিন্দুকের চাবি কেড়ে নেয়। এর পর সংরক্ষিত কক্ষের দরজার তালা কেটে ভেতরে ঢুকে ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে।
এ সময় স্ত্রী এবং শাশুড়িকেও পিটিয়ে আহত করে এবং আলমারিতে থাকা বাবার পারলৌকিক ক্রিয়ার জন্য রাখা নগদ আড়াই লাখ টাকাও নিয়ে ফেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়- যখন সশস্ত্র ডাকাতেরা সাগর ধরের বাড়িতে হানা দেয় তখনও পুরো পাড়ার মানুষ ঘুমে ছিল এবং সুনশান নিরবতা বিরাজ করছিল। সেই সময়েই ডাকাতি সংঘটিত করার পর চলে যাওয়ার সময় স্থানীয় মিন্টু নাথের মুদির দোকানেও ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত করে। তবে মুদির দোকান থেকে কী পরিমাণ মালামাল লুট করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে ডাকাতির ঘটনার খবর পেয়ে ডাকাত কবলিত বাড়ি ও দোকান পরিদর্শন করেছেন চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিত দাস, চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন।
এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, এই ঘটনার লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
