বিশেষ প্রতিবেদক
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাতে চায় ওয়াশিংটন। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতির অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র চায়, বাংলাদেশ যেন আরও বেশি মার্কিন পণ্য আমদানি করে এবং দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমায়। ২০২৫ সালের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিষয়টি তাদের অগ্রাধিকারে রয়েছে।
এই ইস্যুগুলোই বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান রজারের ৫ দিনের ওয়াশিংটন সফরের মূল আলোচ্য বিষয়। তিনি গত বুধবার ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন।
ওয়াশিংটনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যালিসন হুকার এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
এছাড়া মার্কিন সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চের সঙ্গেও তার বৈঠক হবে, যেখানে বাণিজ্যসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
শুক্রবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। ক্রিস্টেনসেনের ১২ই জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ওয়াশিংটনে কর্মরত এক কূটনীতিক জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হলো অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত ফেরত পাঠানো এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানো।
মার্কিন সরকারের হিসাবে, গত এক বছরে প্রায় ৩০০ বাংলাদেশিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আরও প্রায় ৩০০ জন ফেরত পাঠানোর যোগ্য। এছাড়া প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশি অনিয়মিত অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন, যাদের মামলা আদালতে বিচারাধীন।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত করার চেষ্টা চলছে।
বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে ৮.৩৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি ছিল ২.২১ বিলিয়ন ডলার।
২০২৫ সালে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, তুলা ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বাড়িয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে কিছু পণ্যে বাংলাদেশকে বেশি শুল্ক দিতে হচ্ছে। শুল্ক কমানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এই সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ভিসা বন্ড তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। ফলে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ আরও ব্যয়বহুল হবে।
এর আগে, বাইডেন প্রশাসনের সময় র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে কিছু ব্যক্তির ভিসা সীমিত করা হয়। তবে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন এসব রাজনৈতিক বিষয়ের চেয়ে অবৈধ অভিবাসন ও বাণিজ্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
বাংলাদেশের নির্বাচন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে এক বাংলাদেশি কূটনীতিক বলেন, বিষয়টি এখন যুক্তরাষ্ট্রের বড় অগ্রাধিকার নয়। তবে তারা সামগ্রিকভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়।
