কালাপাহাড়িয়ায় ছাত্রদল নেতার বাড়ি থেকে থানা লুটের অস্ত্রসহ বিপুল অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার

কালাপাহাড়িয়ায় ছাত্রদল নেতার বাড়ি থেকে থানা লুটের অস্ত্রসহ বিপুল অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় মেঘনা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে এক ছাত্রদল নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে থানা থেকে জুলাই দাঙ্গার সময় লুট হওয়া অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ ৯ই জানুয়ারি, শুক্রবার ভোরে ১৪০ জন সেনাসদস্য ও ১০ জন পুলিশ সদস্যের অংশগ্রহণে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয় বলে জানান জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম।

অভিযানে কালাপাহাড়িয়ার কদমীরচর এলাকার বিএনপি কর্মী কাশেম আলীর পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়।

আড়াইহাজার থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন জানান, কাশেম আলীর পুত্র মোবারক হোসেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব।

স্থানীয় বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা জানান, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও দলীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল আজাদের ঘনিষ্ঠ অনুসারী মোবারক হোসেন। তার বাবা কাশেম আলীসহ পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত দীর্ঘদিন ধরে।

অভিযান গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- কালাপাহাড়িয়ার খালিয়ার চরের এরশাদের ছেলে মো. জাকির (৩০), একই এলাকার কানাই মিয়ার ছেলে মো. জনি (১৯), প্রয়াত হযরত আলীর ছেলে মো. স্বপন (৪০), শামসুল হক ব্যাপারীর ছেলে আব্দুল মতিন (৪৫) এবং শুকুর আলীর ছেলে রিন্টু মিয়া (৫১)।

অভিযান শেষে বিকেলে খালিয়ার চর জাহানারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল যোবায়ের আলম জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০০৪ সালের জুলাই-আগস্টে সরকারবিরোধী দাঙ্গার সময় আড়াইহাজার থানা থেকে লুট হওয়া একটি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, পিস্তলের ১০ রাউন্ড গুলি এবং শটগানের ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৮টি ককটেল, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, ধারালো অস্ত্র, চাইনিজ কুড়াল, একটি ইলেকট্রিক স্টানগান ও মাদক জব্দ করা হয়। অভিযানে ১০ লাখ টাকা ও কয়েকটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল যোবায়ের আলম জানান, নদীবেষ্টিত হওয়ায় কালাপাহাড়িয়া এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অপরাধপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে অভিযান শুরু হয়। যৌথবাহিনীর সদস্যরা নদীপথ, বের হওয়ার রাস্তা ও বসতবাড়ি ঘিরে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেন।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, অপরাধীদের আশ্রয়স্থল চিহ্নিত করা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল অভিযানের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে জানতে ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোবারক হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Visited 20 times, 1 visit(s) today