নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ – আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নিরাপত্তা উদ্বেগকে কারণ দেখিয়ে বিসিবি আইসিসিকে ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছে। এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল।
তামিম বলেন, “একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এবং আইসিসির সঙ্গে আলোচনা শেষ হওয়ার পরই মন্তব্য করা উচিত। প্রতিটি ধাপে কথা বললে অকারণ অনিশ্চয়তা তৈরি হয়—যেটা এখন দেখা যাচ্ছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এক সপ্তাহ পর যদি সিদ্ধান্ত বদলে যায়, তখন আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আমার মনে হয়, আগে নিজেদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিন, তারপর সেটা সবাইকে জানান।”
নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তামিমের মত, “আমরা যখন আগে ভারতে গিয়েছি, তখন এ ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়িনি। নিরাপত্তা নিয়েও কোনো শঙ্কা ছিল না। এখন পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। যেহেতু আমার হাতে সব তথ্য নেই, তাই মন্তব্য করতে চাই না। তবে একটা কথা বলব—পৃথিবীর অনেক সমস্যাই আলোচনা আর সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা যায়।”
ক্রিকেট ভবিষ্যতের কথা উল্লেখ করে সাবেক ক্যাপ্টেইন বলেন:
‘আমি তো বললাম যে সিদ্ধান্ত নিবেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষৎ চিন্তা করে নিতে হবে, হুটহাট সিদ্ধান্ত নিলে হবে না। আপনি যদি দেখেন আমাদের ৯০-৯৫ ভাগ ফাইনান্স কিন্তু আইসিসি থেকেই আসে। আমরা যখন খেলতে যাই দর্শক অনেক রকম করেই চিন্তা করে আবেগ থেকে অনেক কিছু বলে। সব কিছু এভাবে চিন্তা করলে আপনি এত বড় প্রতিষ্ঠান চালাতে পারবেন না। আজকের সিদ্ধান্ত আগামী দশ বছর পর কী প্রভাব পড়বে এগুলো সব চিন্তা করতে হবে। যে সিদ্ধান্তটা আমাদের ক্রিকেটারদের জন্য ভালো, বাংলাদেশের জন্য ভালো সেটা নিতে হবে।’
এই বিতর্কের সূত্রপাত মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা থেকে। বিসিবি নিরাপত্তা উদ্বেগ জানিয়ে আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে, যদিও আইসিসি এখনও ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছে। বিসিবি জানিয়েছে, তারা আইসিসির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে।
তামিমের এই প্রতিক্রিয়া ক্রিকেটমহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় আরও সতর্কতা ও স্বচ্ছতা দরকার, যাতে অনিশ্চয়তা না তৈরি হয়। বিশ্বকাপ শুরু হতে মাত্র এক মাস বাকি, তাই এই ইস্যুর দ্রুত সমাধান জরুরি।
