নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠকে ক্রিকেট উপযোগী করে তুলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ডাকসুর কাছে ২ কোটি টাকা হস্তান্তর করেছে। ২০২৬ এর ফেব্রুয়ারি ১০ তারিখের এই লেনদেনকে অফিসিয়াল অনুদান হিসেবে দেখানো হলেও, রাজনৈতিক মহলে এটিকে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ‘জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সম্পর্কের দায় মেটানোর’ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের কানাঘুষা অনুসারে, আমিনুল ইসলাম বুলবুল জামায়াতে ইসলামীর প্রভাবে বিসিবি প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। ডাকসু ভিপি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাদিক কায়েম এর দলের হাতে ২ কোটি টাকা দেওয়াকে অনেকে সেই ‘রাজনৈতিক দায়’ শোধের মাধ্যম হিসেবে অভিহিত করছেন।
২ কোটি টাকা অনুদানের শর্ত ছিল:
১. বিসিবি বার্ষিক ক্রিকেট সিজনে অন্তত ১০০ দিন মাঠ ব্যবহার করতে পারবে।
২. টাকা দিয়ে ডাকসু মাঠকে ক্রিকেটের উপযুক্ত মানে উন্নীত করবে।
দীর্ঘ ১৩-১৪ বছর অব্যবহৃত এই মাঠ মূলত ফুটবলের জন্য প্রস্তুত ছিল। মার্চের মধ্যে প্রস্তুত করার কথা থাকলেও, প্রায় ৯০ দিন পেরিয়ে গেছে। এখনো মাঠ ক্রিকেটের জন্য কতটা প্রস্তুত, কয়টি ডিভিশনাল ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছে—তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই। টাকার স্বচ্ছ ব্যয় ও অগ্রগতির প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এটি সত্যিকারের উন্নয়ন না কি প্রেসিডেন্ট করার জন্য পুরষ্কার?
বিসিবির সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগ
পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টের আমলে বিসিবিতে প্রায় ১২’শ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট রেখে যাওয়ার কথা উঠে এসেছিল বিভিন্ন রিপোর্টে, যার সুদ থেকে বোর্ডের খরচ চলে। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে এই সম্পদ থেকে ক্রিকেট-সম্পর্কহীন ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে কী কী অযৌক্তিক খরচ হয়েছে—তা নিয়ে রাজনৈতিক ও ক্রীড়া মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে।
অভিযোগ রয়েছে যে, বুলবুলের আমলে বিসিবির তহবিল ব্যবহার হয়েছে এমন সব খাতে যার সঙ্গে ক্রিকেট উন্নয়নের সরাসরি সম্পর্ক নেই। এসব অভিযোগের মধ্যে স্বচ্ছতার অভাব, অগ্রাধিকারহীন খরচ এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ অন্যতম।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেদ্রীয় মাঠকে ক্রিকেটে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ ইতিবাচক হতে পারত। কিন্তু রাজনৈতিক লেনদেন, দুর্নীতি ও স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগে পুরো বিষয়টি বিতর্কিত হয়ে উঠেছে। বিসিবি ও ডাকসু উভয়পক্ষের কাছে জনগণের প্রত্যাশা—দ্রুত পূর্ণাঙ্গ হিসাব, অগ্রগতির প্রতিবেদন এবং স্বাধীন তদন্ত। অন্যথায় বিসিবির এই ‘অনুদান’ শুধু ক্রিকেটের উন্নয়ন নয়, বরং রাজনৈতিক দুর্নীতির নতুন উদাহরণ হিসেবেই চিহ্নিত হবে।
