নিজের আর্থিক ক্ষতি না করে সমর্থকদের টাকায় নির্বাচন করার “ধূর্ত কৌশল” ব্যারিস্টার ফুয়াদের

নিজের আর্থিক ক্ষতি না করে সমর্থকদের টাকায় নির্বাচন করার “ধূর্ত কৌশল” ব্যারিস্টার ফুয়াদের
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ – ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসন থেকে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী ও দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ নির্বাচনী প্রচারণায় নিজস্ব কোনো অর্থ ব্যয় না করার ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায়ও তিনি এই অবস্থানের কথা উল্লেখ করেছেন, যাতে বলা হয়েছে যে তিনি নিজের টাকা খরচ করবেন না এবং কারো কাছ থেকে ধারও নেবেন না।

এই কৌশলকে অনেকে চতুরতা হিসাবে উল্লেখ করছেন। কারন, পরিস্থিতি বিবেচনায়, নিজ এলাকায় ভোটারদের মধ্যে তেমন একটা প্রভাব বিস্তার না করতে পারা ব্যারিস্টার ফুয়াদ নির্বাচনে হেরে গেলেও যেন নিজের আর্থিক কোন ক্ষতি না হয়, সেই কারনেই এই কৌশল ব্যাবহার করছেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা বাকপটু এই আইনজীবি ও টকশো অতিথি।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভিডিও বার্তা দিয়ে দেশ-বিদেশের সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। এতে বিপুল সাড়া পড়েছে—মাত্র তিন দিনে তার নির্বাচনী তহবিলে জমা পড়েছে প্রায় ৩৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে বিকাশ, নগদ ও ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে এই অনুদান এসেছে। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী এ আসনে তার সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ৩৩ লাখ ২১ হাজার টাকা হলেও অতিরিক্ত অনুদানের বিষয়ে তিনি স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদ্ধতিতে প্রচারণা চালিয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদ নিজের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি এড়িয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনে হারলে সমর্থকদের দেওয়া টাকা খরচ হয়ে যাবে, কিন্তু তার ব্যক্তিগত কোনো লোকসান হবে না।

এবি পার্টি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এবি পার্টিকে জামায়াতে ইসলামীর বি-টিম হিসাবেও বলা হয়ে থাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে।

হলফনামায় ব্যারিস্টার ফুয়াদের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে মাত্র ৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা (আইন পেশা, ইউটিউব ও টকশো থেকে), যা অন্য প্রার্থীদের তুলনায় সর্বনিম্ন। এ কারণে সমর্থকদের অনুদানের উপর নির্ভর তার প্রচারণা। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, সব লেনদেন অডিট করে প্রকাশ করবেন এবং নির্বাচন কমিশনের নিরীক্ষায় সহযোগিতা করবেন।

জুলাই নেত্রী তাসনিম জারার অনুকরনে এই কৌশল নির্বাচনী প্রচারণায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, তবে এতে স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে চলার প্রশ্নও উঠেছে। নির্বাচনের ফলাফল কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

 

Visited 14 times, 1 visit(s) today