নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ৭ জানুয়ারি ২০২৬ – যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে রেমিটেন্স পাঠানোর ক্ষেত্রে নতুন একটি চ্যালেঞ্জ যোগ হয়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর অংশ হিসেবে চালু হওয়া ১% এক্সাইজ ট্যাক্স আজ থেকে কার্যকর হয়েছে। এই ট্যাক্স শুধুমাত্র নগদ ডলার, মানি অর্ডার বা ক্যাশিয়ার্স চেকের মতো নন-ব্যাংকিং বা ফিজিক্যাল মাধ্যমে পাঠানো রেমিটেন্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ফলে আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা যারা এ ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করেন, তাদের অতিরিক্ত ১% খরচ বহন করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সার্ভিস (আইআরএস) অনুসারে, এই ট্যাক্স রেমিটেন্স ট্রান্সফার প্রোভাইডারদের (যেমন মানি ট্রান্সফার কোম্পানি) দ্বারা সংগ্রহ করা হবে এবং তা ত্রৈমাসিকভাবে আইআরএস-এ জমা দিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো প্রবাসী ১০০০ ডলার নগদে পাঠান, তাহলে অতিরিক্ত ১০ ডলার ট্যাক্স কাটা হবে।
তবে সুখবর হলো, এই ট্যাক্স ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, ডিজিটাল ওয়ালেট (যেমন অ্যাপল পে, গুগল পে) বা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পাঠানো রেমিটেন্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে প্রবাসীরা সহজেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্যুইচ করে এই অতিরিক্ত খরচ এড়াতে পারবেন। রেমিটলি, ওয়াইজ বা ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মতো অনেক কোম্পানি ইতিমধ্যে ডিজিটাল সার্ভিসের মাধ্যমে ট্যাক্স-ফ্রি ট্রান্সফারের সুবিধা দিচ্ছে।
এই নতুন ট্যাক্সের একটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সেই সকল প্রবাসী বাংলাদেশীর উপর, যারা ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে নগদে (ক্যাশে) কাজ করেন এবং আয়ের বড় অংশ অনানুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের কাছে পাঠান। এরা প্রায়শই ব্যাংকিং চ্যানেল এড়িয়ে নগদ বা ফিজিক্যাল মাধ্যম ব্যবহার করেন, যার ফলে এখন থেকে প্রতি রেমিটেন্সে অতিরিক্ত ১% মাসুল গুনতে হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এতে তারা হয়তো ডিজিটাল বা ব্যাংকিং পদ্ধতিতে ফিরে আসবেন, যা সামগ্রিকভাবে ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স বাড়াতে সহায়ক হবে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রেমিটেন্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। প্রবাসীদের এই আয় দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা পালন করে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ট্যাক্সের কারণে কিছু প্রবাসী নগদ পদ্ধতি ছেড়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে ফিরে আসতে পারেন, যা বাংলাদেশের জন্য বৈধ রেমিটেন্স বাড়াতে সহায়ক হবে। তবে যারা এখনও নগদে পাঠান, তাদের জন্য খরচ বাড়বে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা এ বিষয়ে প্রবাসীদের সচেতন করার উদ্যোগ নেবেন এবং ডিজিটাল রেমিটেন্সকে উৎসাহিত করবেন। প্রবাসীরা যাতে সহজে ট্যাক্স এড়াতে পারেন, সে জন্য ব্যাংক ও মোবাইল অ্যাপের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।এই নতুন ট্যাক্স প্রবাসীদের জন্য একটি নতুন বাস্তবতা, কিন্তু সঠিক পদ্ধতি বেছে নিলে এর প্রভাব কমিয়ে আনা সম্ভব।
