নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন বছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত ৬ জানুয়ারি ভিসা বন্ডের আওতায় পড়া দেশগুলোর তালিকা আপডেট করে বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশকে যুক্ত করেছে। এর ফলে আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক বা পর্যটন ভিসা (B1/B2) পাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ১৮ লাখ টাকা) পর্যন্ত জামানত বা ‘ভিসা বন্ড’ জমা দিতে হতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইট travel.state.gov-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই পাইলট প্রোগ্রামের আওতায় এখন মোট ৩৮টি দেশের নাগরিকদের B1/B2 ভিসার জন্য এই বন্ড প্রযোজ্য হবে।
বাংলাদেশ ছাড়াও তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, কিউবা, নেপাল, নাইজেরিয়া, ভেনেজুয়েলা প্রভৃতি দেশ। এই নিয়মের উদ্দেশ্য হলো ভিসা ওভারস্টে (নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান) রোধ করা এবং ভ্রমণকারীদের সময়মতো দেশ ত্যাগ নিশ্চিত করা।
বন্ডের পরিমাণ ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলার হতে পারে, যা ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় কনস্যুলার অফিসার আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এবং ওভারস্টে ঝুঁকির ভিত্তিতে নির্ধারণ করবেন। জামানত জমা দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম Pay.gov-এর মাধ্যমে।
তবে সতর্কতা জারি করা হয়েছে যে, কনস্যুলার অফিসারের নির্দেশনা ছাড়া কোনো অর্থ জমা দেওয়া যাবে না এবং থার্ড পার্টি ওয়েবসাইট ব্যবহার করলে সরকার দায়ী থাকবে না।
এছাড়া, বন্ড প্রদানকারী ভ্রমণকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য নির্দিষ্ট তিনটি বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হবে: জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ওয়াশিংটন ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
বন্ডের অর্থ ফেরতযোগ্য, যদি ভ্রমণকারী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বা তার আগে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন অথবা ভিসা পাওয়ার পর সেখানে না যান। তবে ওভারস্টে করলে, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে অথবা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করলে (যেমন আশ্রয় প্রার্থনা) জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
এই নিয়ম বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও জটিল ও ব্যয়বহুল করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ নাগরিকদের পক্ষে এত বড় অংকের জামানত জমা দেওয়া কঠিন হবে, যা পর্যটন, ব্যবসা বা পারিবারিক ভ্রমণের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্ড প্রদান ভিসা ইস্যুর গ্যারান্টি দেয় না। এটি কেবলমাত্র উচ্চ ওভারস্টে হারের দেশগুলোর জন্য একটি অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
