বাঁশখালী সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারচড়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ধরতে যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউল হক চৌধুরীকে ছিনিয়ে নিল জনতা।
০৫ জানুয়ারি, সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড কদম রসুল বটতলী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জিয়াউল হক চৌধুরী খানখানাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন এবং গত ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জিয়াউল হক চৌধুরী’কে চব্বিশের জুলাই-আগষ্টের সহিংসতার বিরোধিতা হিসেবে চিহ্নিত আখ্যা দিয়ে বাঁশখালী উপজেলার একটি ভুয়া মামলার আসামি করা হয়। বাহারচড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নাছিরসহ সঙ্গী পুলিশ ফোর্স জিয়াউল হক চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করতে যায়। গ্রেপ্তার করতে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেন।
একপর্যায়ে আসামি জিয়াউল হক চৌধুরী’কে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। খবর পেয়ে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদ সাইফুল্লাহ অতিরিক্ত ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে যান।
এ বিষয়ে জানতে এসআই নাছিরকে ফোন করা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে পরে বিস্তারিত জানাবেন বলে ফোন সংযোগ কেটে দেন।
বিক্ষুব্ধ জনতার দাবি, জিয়াউল হক চৌধুরী আমাদের সুখে-দুঃখের সাথী। আওয়ামী লীগের আমলে জিয়াউল হক চৌধুরী আমাদের পাশে ছিলেন। এমন একজন নেতাকে আমাদের সামনে বিনা অপরাধে কেউ আটক করে নিয়ে যাবে তা আমরা জনগণ কিভাবে চুপ থাকতে পারি। তাই ওনাকে পুলিশ আটক করেছে বলে শোনার সাথে সাথেই আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে যে যেভাবে পারি সবাই জিয়া ভাইকে বিএনপি-জামায়াত কর্তৃক মিথ্যা অপবাদ থেকে মুক্ত করতে ঝাঁপিয়ে পড়ি। আমরা বেঁচে থাকতে, জিয়া ভাইকে এই মিথ্যা অপবাদের শাস্তি পেতে দিতে পারি না।
এ বিষয়ে ওসি খালেদ সাইফুল্লাহ আজাদীকে বলেন, জিয়াউল হক চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশ বাধার মুখে পড়ে। যারা পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছেন তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি বর্তমানে ঘটনাস্থলে আছি।
