নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা যেন থামছেই না। সর্বশেষ সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে এক সনাতন ধর্মাবলম্বী যুবককে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
এই ঘটনা দেশজুড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তুলেছে।নিহতের নাম রানা প্রতাপ (৪৫)। তিনি কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামের বাসিন্দা তুষারকান্তি বৈরাগীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল আনুমানিক ৫টা ৪৫ মিনিটে কপালিয়া বাজারে অবস্থানকালে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা রানা প্রতাপকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে মনিরামপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মনিরামপুর থানার ওসি রজিউল্লাহ খান বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।”
এই হত্যাকাণ্ডকে সাম্প্রতিক সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপর চলমান নিয়মিত হামলা ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের অংশ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও অধিকারকর্মীরা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘরে হামলা, মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও প্রধান উপদেষ্টা এই সকল হত্যাকান্ডকে সংখ্যালঘু হিসাবে হত্যা বলতে নারাজ, বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই সকল হত্যাকাণ্ডকে নৌকার ভোটার হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা এবং রাজনৈতিক প্রশ্রয়ের কারণে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে। সংখ্যালঘু নেতারা দাবি করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে। এই ঘটনা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি বলে মনে করছেন অনেকে।
