বিশেষ প্রতিবেদক
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে প্রশাসনের লোক পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী এম এ তাফসীর হাসানসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনা ঘটে গত শনিবার রাতে উপজেলার বারেয়া গ্রামে। স্থানীয়রা চিত্কার শুনে এগিয়ে এসে অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
গ্রেপ্তারকৃত তাফসীর হাসান (৩৩) এনসিপির বোচাগঞ্জ উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী এবং জেলা যুগ্ম সদস্যসচিব। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। অপর গ্রেপ্তারকৃত মঞ্জুর আলম (৩৬)।
ঘটনায় বাদী সন্তোষ কুমার রায় অভিযোগ করেন, আসামিরা লোহার পাইপ ও লাঠি নিয়ে বাড়িতে ঢুকে পরিবারকে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করেন।
জেলা এনসিপি আহ্বায়ক মুক্তাদির হোসেন বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে রাজনৈতিক গ্রেপ্তার হলে দল পাশে থাকবে।
বোচাগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, মামলা তদন্তাধীন এবং গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এনসিপি গঠনের মাত্র ১০ মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের বিপুল সম্পদ বৃদ্ধির খবর প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি নির্বাচনি হলফনামায় দেখা গেছে, দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতা কোটিপতি হয়ে উঠেছেন—যা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। এ অবস্থায় তৃণমূল কর্মীরা ‘শর্টকাট’ পথে চাঁদাবাজি করে ধরা পড়ছেন।
কিন্তু পুলিশ হত্যায় আত্মস্বীকৃত ছাত্রনেতাকে ছাড়াতে সব জুলাইযোদ্ধা পথে নামলেও কোনো ‘জুলাইযোদ্ধা’র ছায়া পর্যন্ত পাশে দেখা যাচ্ছে না দিনাজপুরের গ্রেপ্তারকৃতদের পাশে।
তবে ৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার আরেক জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভী আটক হওয়ার পর তাকে ছাড়াতে উঠে-পড়ে লেগেছেন এনসিপি, গুপ্ত সংগঠন শিবিরসহ সমমনা বিভিন্ন দলের নেতারা। সুরভীর গ্রেপ্তার এবং চাঁদাবাজিকে ‘অবিশ্বাস্য’ আখ্যা দিয়ে রীতিমত তোলপাড় করছেন।
যদিও এখানে কেউ কেউ বড় অংকের আর্থিক লেনদেনের হিসাব-নিকাশ দেখছেন।
দেশের বিভিন্ন স্থানে এনসিপি নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি, হামলা ও টেন্ডারবাজির অভিযোগ উঠেছে, যা দলের ভাবমূর্তিতে আঘাত হানছে।
প্রশ্ন উঠছে, কেন্দ্রীয় নেতারা যখন সম্পদের পাহাড় গড়ছেন, তৃণমূল কেন বঞ্চিত হবে, তাদেরই বা নির্বাচনের খরচ কে যোগাবে! জুলাই আন্দোলনের সকল প্রধান সমন্বয়ক আর রোলমোডেলদের মতো তাই ছোট পরিসরে শর্টকাট রাস্তায় নিজেদের সংস্কারে ব্যাস্ত জুলাইযোদ্ধারা।
