জুলাই দাঙ্গায় পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষ হত্যায় জড়িত সেই বৈছা সমন্বয়ক মাহদী গ্রেপ্তার

জুলাই দাঙ্গায় পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষ হত্যায় জড়িত সেই বৈছা সমন্বয়ক মাহদী গ্রেপ্তার
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ ৩রা জানুয়ারি, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ওসির সামনে বসে জুলাই দাঙ্গার সময় পুলিশের এসআইকে পিটিয়ে-পুড়িয়ে হত্যার কথা স্বীকার করার ঘটনায় আলোচিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র (বৈছা) আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহদী হাসান পুলিশ হেফাজতে রয়েছে বলে জানায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাকর্মীরা।

শনিবার সন্ধ্যায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় একাধিক দায়িত্বশীল নেতা বিডি ডাইজেস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে পুলিশের সামনে প্রকাশ্যে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা বলার পর ওই সমন্বয়ককে আটক করা হয়েছে।

সেনা সমর্থিত জুলাই বিক্ষোভে সমন্বয়ক ও গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক (উত্তরাঞ্চল) আবু তৌহিদ মো. সিয়াম নিজের ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, পুলিশের এসআই হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এক যুবককে ‘স্টেটমেন্ট’ দেওয়ার পর ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে এবং পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ৫ই আগস্ট থানা পোড়ানো ও পুলিশ হত্যার ঘটনায় সম্পৃক্ততার কথা বলার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের টার্গেট করা হচ্ছে। তার ভাষায়, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।

 

এর আগে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ‘ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ অভিযানে আটক ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতাকে ছাড়িয়ে নিতে গিয়ে থানার ভেতরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় বৈষম্যবিরোধী মাহদী হাসান ও থানার ওসি আবুল কালামের মধ্যে তর্ক হয়। সেই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

ভাইরাল ভিডিওতে মাহদী হাসানকে বলতে শোনা যায়, আন্দোলনের কারণেই বর্তমান প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, দাঙ্গার সময় বানিয়াচং থানায় অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় তারাই জড়িত ছিলেন।

এই প্রকাশ্য বক্তব্যের পরও তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আইনি পদক্ষেপ দেখা না যাওয়ায় দায়মুক্তি অধ্যাদেশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এ বিষয়ে বৈছার কেন্দ্রীয় কমিটির একজন নেতা বিডি ডাইজেস্টকে বলেন, “ভাইরাল ভিডিও ও ফেসবুক পোস্টের পর পরিস্থিতি আর আগের মতো ছিল না। সংশ্লিষ্ট সমন্বয়ককে ডিবি তুলে নিয়েছে—এমন তথ্য আমরা পেয়েছি। তবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কি না, বা কোনো মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না—সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”

অন্যদিকে পুলিশ বা ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শায়েস্তাগঞ্জ থানার কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট বানিয়াচং থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের এসআই সন্তোষ চৌধুরী হত্যার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করলেও এক বছর পার হলেও মামলার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। কোনো আসামিকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

আইন ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই–আগস্টের সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা দায়মুক্তিমূলক নির্দেশনার কারণে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, প্রকাশ্যে পুলিশ হত্যার দাবি ওঠার পরও যদি আইনি ব্যবস্থা দৃশ্যমান না হয়, তাহলে তা আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা আরও দুর্বল করবে।

পুলিশ হত্যাকাণ্ডে প্রকাশ্য দাম্ভোক্তির পর সংশ্লিষ্ট সমন্বয়ককে ডিবি তুলে নেওয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে দায়মুক্তি অধ্যাদেশ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।

Visited 38 times, 1 visit(s) today