নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ভেতরে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট নিয়ে দ্বন্দ্ব ও সঙ্গনিরোধ তথা দূরত্ব প্রকাশ্যে আসার পর দলটির নারী নেতৃবৃন্দ সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, কেন্দ্রীয় নেত্রী তাজনূভা জাবিন ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিনকে লক্ষ্য করে জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট সাইবার গ্রুপ পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ চালাচ্ছে বলে দাবি করেছেন এনসিপির একাধিক নেতা ও সমর্থক।
হাজার হাজার ‘বট আইডি’ দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ এই হামলা করছে জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত সাইবার ক্রিমিনালরা, অভিযোগ করা হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোটের বিরোধিতা করে অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব নেত্রীর বিরুদ্ধে কুৎসা, ব্যক্তিগত আক্রমণ, বিকৃত ছবি, চরিত্রহননমূলক পোস্ট এবং সংগঠিত ট্রলিং শুরু হয়। ফেসবুক ও এক্সে একই ধরনের ভাষা, হ্যাশট্যাগ ও কনটেন্ট ব্যবহার করে সমন্বিতভাবে আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
তাসনিম জারা সম্প্রতি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এর পরপরই তার বিরুদ্ধে অনলাইন আক্রমণ তীব্র হয় বলে তার ঘনিষ্ঠরা জানান। সফটওয়্যারের মাধ্যমে সৃষ্ট বট ও ফেক আইডি দিয়ে এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
একইভাবে জামায়াতের সঙ্গে জোটের ঘোষণার বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করা সামান্থা শারমিন এবং নারী অধিকার ও আদর্শিক প্রশ্নে সরব অবস্থানে থাকা তাজনূভা জাবিনকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
জামায়াতবিরোধী অবস্থান নেওয়া এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, নারী নেত্রীদের ভয় দেখানো, ব্যক্তিগতভাবে হেয় করা এবং রাজনৈতিকভাবে চুপ করিয়ে দেওয়ার কৌশল হিসেবেই এই সাইবার আক্রমণ চলছে।
তার দাবি, এসব আক্রমণের ভাষা ও ধরন অতীতে জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মিল রয়েছে।
দলটির ভেতরের আপত্তি তোলা নেতারা বলছেন, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ, নারী স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রশ্নে অবস্থান নেওয়ায় নারী নেতাদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ চালানো হচ্ছে।
তারা মনে করছেন, এটি শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়; বরং ভিন্নমত দমন ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির অংশ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপি ত্যাগ করতে চাচ্ছেন এমন একাধিক নেতা বলেন, দলীয় ভাঙন ও আদর্শিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সাইবার আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তারা মনে করছেন, এ ধরনের আক্রমণ নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
