নিজস্ব প্রতিবেদক::
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই নভেম্বর) রাজস্ব আদায়ে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ সময়ে রাজস্ব আদায়ে মোট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৪৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এনবিআর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে শ্লথগতি, আমদানি কমে যাওয়া এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে রাজস্ব আদায় প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়েনি।
এনবিআরের পরিসংখ্যান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আলোচ্য পাঁচ মাসে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। বিপরীতে একই সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
খাতভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, জুলাই নভেম্বর সময়ে আমদানি ও রফতানি পর্যায় থেকে রাজস্ব এসেছে ৪২ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা। স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) থেকে আদায় হয়েছে ৫৮ হাজার ২৩১ কোটি টাকা এবং আয়কর ও ভ্রমণ কর খাত থেকে সংগ্রহ হয়েছে ৪৭ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা।
প্রবৃদ্ধির দিক থেকে সবচেয়ে ভালো করেছে ভ্যাট খাত, যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ দশমিক ৯৭ শতাংশ। আয়কর খাতে প্রবৃদ্ধি ১৭ শতাংশ এবং আমদানি-রফতানি পর্যায়ের শুল্কে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ।
তবে এই প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও তিনটি প্রধান খাত আমদানি শুল্ক, মূসক ও আয়কর কোনোটিই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ঘাটতি দেখা গেছে আয়কর খাতে। পাঁচ মাসে এই খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৯ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা, কিন্তু ঘাটতি হয়েছে ১২ হাজার ১১৪ কোটি টাকা।
অন্যদিকে আমদানি পর্যায়ে ৫০ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। ভ্যাট খাতে জুলাই নভেম্বর সময়ে ৬২ হাজার ৪৮ কোটি টাকার লক্ষ্যের বিপরীতে আদায়ে ঘাটতি হয়েছে ৩ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা।
শুধু নভেম্বর মাসের হিসাবেও বড় ধরনের ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। এ মাসে ৩৬ হাজার ৩২৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে প্রায় ২৯ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা। ফলে এক মাসেই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৬৭ কোটি টাকা, যদিও ওই মাসে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪ দশমিক ২০ শতাংশ।
এনবিআর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে শ্লথগতি, আমদানি কমে যাওয়া এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে রাজস্ব আদায় প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়েনি।
উল্লেখ্য, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির প্রায় ৯ শতাংশ। এর মধ্যে এনবিআরের মাধ্যমে ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৬৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
