বাম, শাহবাগ, ছায়ানট ও উদীচীকে ‘তছনছ’ করার ঘোষণা জাবি শিবির সেক্রেটারির

বাম, শাহবাগ, ছায়ানট ও উদীচীকে ‘তছনছ’ করার ঘোষণা জাবি শিবির সেক্রেটারির
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক::

ইসলামী ছাত্রশিবিরের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমান প্রকাশ্যে বামধারার রাজনীতি, শাহবাগ আন্দোলন এবং বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ছায়ানট ও উদীচীর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। তাঁর বক্তব্যকে বাঙালি সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর গতকাল রাতে জাবির শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,

“রাজনৈতিক লড়াই করে বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব নয়। আমাদের লড়াই শুরু হবে সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। আগামীকাল বাম, শাহবাগি, ছায়ানট ও উদীচীকে তছনছ করে দিতে হবে—তাহলেই প্রকৃত স্বাধীনতা আসবে।”

তার এই বক্তব্যে বাঙালি সংস্কৃতিচর্চার দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলোকে ‘শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রশিবিরের পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

জাবি নেতা আরো বলেন, ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন ও বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের ‘পুশব্যাক’-করতে হবে ২৪ ঘন্টার মধ্যে।
তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের ওপর দিয়ে ভারতের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না।

তার এমন আক্রমণাত্মক বক্তব্যের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই একে বাঙালি সংস্কৃতি, মুক্তচিন্তা ও সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদের বিরুদ্ধে উগ্র সাম্প্রদায়িক অবস্থান হিসেবে উল্লেখ করেন।

সমালোচনার মুখে পড়ে শুক্রবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে মোস্তাফিজুর রহমান দাবি করেন, তিনি রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি ‘কালচারাল হেজেমনির’ বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। সেখানে তিনি ছায়ানট ও উদীচীকে ‘আওয়ামী প্রক্সি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের সাংস্কৃতিক বয়ান ভেঙে দেওয়ার কথা বলেন।

পরে সন্ধ্যায় আরেকটি পোস্টে তিনি ‘তছনছ’ শব্দের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে তিনি ভাঙচুর বোঝাননি, বরং নিয়মতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে ‘ফ্যাসিবাদী বয়ান’ মোকাবিলার কথা বলেছেন। শব্দচয়নে তাড়াহুড়ো হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্যে বাঙালি সংস্কৃতির প্রধান সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে এমন ভাষা জামায়াত–শিবিরের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতিবিরোধী ও একমাত্রিক ধর্মীয় রাজনীতিরই বহিঃপ্রকাশ। তাঁদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য সাংস্কৃতিক সহাবস্থান ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তার জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে।

Visited 17 times, 1 visit(s) today