কটূক্তির কথিত অভিযোগ: হিন্দু শ্রমিককে গাছে ঝুলিয়ে আগুনে পুড়িয়ে মারল তৌহিদি জঙ্গিরা

কটূক্তির কথিত অভিযোগ: হিন্দু শ্রমিককে গাছে ঝুলিয়ে আগুনে পুড়িয়ে মারল তৌহিদি জঙ্গিরা
শেয়ার করুন

জেলা প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার কথিত অভিযোগ এবং উস্কানি ছড়িয়ে এক হিন্দু শ্রমিককে প্রকাশ্যে গাছে ঝুলিয়ে-পিটিয়ে এবং আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে তৌহিদি জঙ্গিরা। এসময় তারা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহ আকবর’ স্লোগান দিয়ে এলাকা প্রকম্পিত করছিল।

স্থানীয়রা জানান, জামায়াত-শিবির, হিযুবত তাহরীর, হেফাজত, চরমোনাইসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের নেতাকর্মীদের ইন্ধনে উগ্রবাদী জনতা প্রকাশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার ডুবালিয়াপাড়া এলাকার পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট কারখানার সামনে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে।

এ ঘটনার পর সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়সহ ভিন্ন মতাবলম্বীদের মাঝে নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।

নিহত শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাশ (৩০) ওই কারখানায় কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায়। তিনি রবি চন্দ্র দাশের ছেলে।

জানা যায়, কটূক্তির কথিত অভিযোগ এবং উস্কানিতে কারখানা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে একপর্যায়ে দিপুকে কর্তৃপক্ষ কারখানার নিরাপত্তারা কথা ভেবে তাকে বের করে দেয়। বাইরে বেরিয়ে আসতেই তার ওপর হামলে পড়ে উগ্রবাদী জঙ্গিরা। এসময় তারা দিপুকে বেধড়ক মারধর করে। পরে জঙ্গিরা তার দেহ ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে নিয়ে গাছে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এসময় মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জঙ্গিদের বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করার পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে হুমকি-ধমকিও দিয়েছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী এবং মানবাধিকারকর্মীরা জানান, ধর্ম অবমাননার গুজব ছিল সম্পূর্ণ সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা বলেন, প্রকাশ্যে জামায়াত ও ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর কর্মীরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। অথচ ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। এ ঘটনায় ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ধর্মীয় গুজবকে হাতিয়ার করে সংখ্যালঘু ও শ্রমজীবী মানুষকে টার্গেট করার ধারাবাহিক সহিংসতার অংশ এই বর্বর কাণ্ড।

তাদের মতে, দোষীদের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে রক্ষা করা হলে এমন হত্যাকাণ্ড আরও বাড়বে। বরং জামায়াতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় রাজনৈতিক দল এ ঘটনায় উস্কানি দিচ্ছে অভিযোগ তাদের।

এদিকে ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও এখনো পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।

নিহতের পরিবার এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

এই নির্মম হত্যাকাণ্ড নিয়ে সংস্কৃতিকর্মীরা আবারও প্রশ্ন তুলেছেন, ধর্মীয় গুজবের নামে কতদিন এ দেশে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার উৎসব চলবে? আর প্রশাসন নীরব দর্শক হয়ে থাকবে? ইউনূস সরকারের সময়ে ধর্মীয় বর্বরতার নিন্দা জানিয়েছেন সুধীজন।

Visited 40 times, 1 visit(s) today