ইতিহাস পূনর্লিখনের চেষ্টায় জামায়াতঃ এটিএম আজহারুলের দাবি “মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী দল জামাতে ইসলাম”

ইতিহাস পূনর্লিখনের চেষ্টায় জামায়াতঃ এটিএম আজহারুলের দাবি “মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী দল জামাতে ইসলাম”
শেয়ার করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ২ ডিসেম্বর ২০২৫: সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী ও বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, “আওয়ামী লীগ নয়, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী দল জামাতে ইসলাম।” এই বক্তব্য মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবার এবং ইতিহাসবিদদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিগুলোর পুনর্বহালের প্রেক্ষাপটে এই দাবি উচ্চারিত হয়েছে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাম্প্রতিক সভায় আজহারুল ইসলাম বলেন, “১৯৭১-এর মহান যুদ্ধে জামায়াতই ছিল আসল নেতৃত্ব। আওয়ামী লীগের ভূমিকা ছিল নগণ্য।” তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে অসম্মানের অভিযোগ উঠেছে।
এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে রংপুর অঞ্চলে গণহত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১৪ সালে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও, ২০২৫ সালের মে মাসে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রায় উল্টে খালাস দেন। এরপর গত নভেম্বর মাসে তিনি জামায়াতের নায়েবে আমির নির্বাচিত হন, যা অনেকের কাছে ‘যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বহাল’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইতিহাসবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনগুলো এই দাবিকে ‘পাকিস্তানপন্থী প্রচারণা’ বলে অভিহিত করেছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের ছিল, যা ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করে। জামায়াতে ইসলামী তখন পাকিস্তানের পক্ষে ছিল এবং আল-বদর বাহিনীর মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অত্যাচার চালিয়েছিল। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইতিহাস অনুসারে, যুদ্ধে প্রায় ৩০ লাখ শহীদ ও ২-৩ লাখ নারীর ধর্ষণের ঘটনা ঘটে, যার জন্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের স্থানীয় সহযোগীদের দায় চাপানো হয়।

জামায়াত আমির ড. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে দলটি সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেয়েছে এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়েছে। কিন্তু এটিএম আজহারুলের মতো নেতাদের মাধ্যমে ‘ইতিহাস পুনর্লিখনের’ চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধপন্থী নেতারা। একজন মুক্তিযোদ্ধা বলেন, “এটা শহীদদের রক্তে লেখা ইতিহাসকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র। জামায়াতের এই দাবি পাকিস্তানের আইএসআই-প্রণোদিত হতে পারে।”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো সরকারি প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন বিতর্কিত বক্তব্য দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐতিহাসিক সত্যতাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন সংগঠন।
Visited 24 times, 1 visit(s) today