স্থানীয় সংবাদদাতা
সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক পদের নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করায় দিনাজপুরে দুই পরীক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল সকালে পরজপুর ফাসিলাডাঙ্গা হাইস্কুল কেন্দ্রে তল্লাশির সময় অন্তর্বাসে (সেমিজ) সেলাই করা বিশেষ ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং কানের ভেতরে লুকানো রিসিভারসহ এক নারী পরীক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। আরেকজনকে আটক করা হয়েছে নিয়োগপরীক্ষায় প্রক্সি দিতে আসায়।
আটক শিরিন আক্তার পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বাসিন্দা। তিনি বোরকা পরে পরীক্ষায় বসেন। বোরকার ভেতরে ডিভাইস সযত্নে লূকিয়ে রাখার পরেও তার গতিবিধি সন্দেহজন মনে হচ্ছিল।
ওএমআর শিট পূরণের পর তার আচরণে সন্দেহ জাগে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের। তখন সন্দেহের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একজন সদস্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়ে তল্লাশি চালান। তার সেমিজের ভেতরে সেলাই করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং কানে গোঁজা রিসিভার উদ্ধার হলে তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, শিরিন আগেরদিন বোদা থেকে এসে দিনাজপুর শহরের কালুরমোড় এলাকার একটি মেসে ওঠেন। রাতেই প্রতারক চক্র তাকে ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরবরাহ করে। চাকরি পেলে চক্রকে দিতে হতো ১৫ লাখ টাকা এবং পরীক্ষার পর অগ্রিম পরিশোধ করার কথা ছিল ২ লাখ টাকা।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জারিফ সুলতান, কেন্দ্র সচিব সালমা খাতুন এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা।
একইদিনে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের অটোমেটিক ট্রেড কক্ষে প্রক্সি দিতে গিয়ে ধরা পড়েন রংপুর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত। রংপুরের নজরুল চত্বরের একটি আবাসিকে ভাড়া থাকা মিফতাহুলের দুই মাসের আট হাজার টাকা বকেয়া ছিল। সেই বকেয়া ভাড়া মওকুফের লোভে আবাসিক মালিক শরীফ বাবুর প্রস্তাবে তিনি এক পরীক্ষার্থীর হয়ে প্রক্সি দিতে রাজি হন।
উত্তরপত্রে স্বাক্ষর যাচাইয়ের সময় ছবির সঙ্গে মিল না থাকায় কক্ষ পরিদর্শকের সন্দেহ হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রক্সি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।
দিনাজপুর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল খায়ের জানান, “আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তারা কয়েকজনের নাম বলেছে। সেই অনুযায়ী পুরো চক্রকে ধরার চেষ্টা চলছে। পাবলিক পরীক্ষা আইনে মামলা করা হবে।”
দিনাজপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এসএম হাবিবুল হাসান বলেন, কয়েকদিন আগেও ইলেকট্রনিক ডিভাইসচক্রের তিন সদস্য আটক হয়। আমরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। এই ঘটনায় দুটি পৃথক চক্রের সন্ধান মিলেছে।
দিনাজপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় মামলার পর চক্রের অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে।
