নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে অবশ্যই ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে হবে। কিন্তু তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে তার ভোটার হওয়া—এবং ফলত নির্বাচনে অংশগ্রহণ।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর নতুন ভোটার নিবন্ধন, মাইগ্রেশন ও সংশোধন কার্যক্রম বন্ধ থাকে। বিশেষ পরিস্থিতিতে কোর্টের আদেশ ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ পাঁচ কমিশনারের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তফসিলের পর ভোটার করা সম্ভব হলেও তা অত্যন্ত কঠিন ও ব্যতিক্রমী প্রক্রিয়া। ফলে তারেক রহমান যদি প্রার্থী হতে চান, তাকে অবশ্যই তফসিল ঘোষণার আগেই দেশে ফিরতে হবে এবং ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে হবে।
২০০৮ সালে প্রথমবার ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রস্তুত করার সময় তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান লন্ডনে অবস্থান করছিলেন। ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলাসহ একাধিক অভিযোগ মাথায় নিয়ে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৭ সালে দেশত্যাগ করেন তারেক রহমান।
যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণের পর তিনি আর দেশে ফেরেননি। সেসময় তিনি বাংলাদেশের পাসপোর্ট বিট্রিস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেন।
ওই সময় ভোটার তালিকার ছবি ও বায়োমেট্রিক সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে না পারায় ভোটার তালিকায় যুক্ত হতে পারেননি তিনি।
ডা. জুবাইদা রহমান কয়েক মাস আগে দেশে এসে ভোটার হয়েছেন। কিন্তু তারেক রহমান লন্ডনেও ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেননি। লন্ডন, বার্মিংহাম ও ম্যানচেস্টারে বাংলাদেশি ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম সচল থাকলেও তারেক সেখানে এনআইডি করার উদ্যোগ নেননি বলে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ নিশ্চিত করেছে।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ জানিয়েছে, তারেক রহমানকে দেশে ফিরে— বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ, আইরিশ, স্বাক্ষর) প্রদান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া, স্থানীয় নির্বাচন অফিসারের যাচাই–বাছাই শেষে ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে হবে। তবে তফসিল ঘোষণার পর এটি করা প্রায় অসম্ভব।
ইসির এক কর্মকর্তা বলেন, “তফসিলের আগে দেশে ফিরলেই তিনি সহজ প্রক্রিয়ায় ভোটার হতে পারবেন। কিন্তু তফসিলের পরে তা অত্যন্ত জটিল এবং অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।”
১৩ই নভেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে ১২ হাজার ৪৯৮ জন আবেদনকারী ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করেন, এর মধ্যে ৫ হাজার ৭৪৯ জন চূড়ান্তভাবে ভোটার হয়েছেন। তবে তাদের তালিকায় নেই তারেক রহমানের নাম।
কারণ—ভোটার হতে হলে লন্ডনের নির্দিষ্ট স্টেশনে গিয়ে বায়োমেট্রিক দিতে হয়, আর তারেক সেখানে হাজির হননি।
নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে জানিয়েছে—ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণা হবে এবং ফেব্রুয়ারিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
অর্থাৎ তারেক রহমানের হাতে দেশে ফিরে ভোটার হওয়ার জন্য সময় আর বেশি নেই। বিএনপি জানিয়েছে, তিনি নভেম্বরের শেষ দিকে বা ডিসেম্বরের শুরুতে দেশে ফিরতে পারেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদও জানিয়েছেন, “এ মাসের শেষ নাগাদ তিনি ফিরতে পারেন।”
বিএনপি বগুড়া–৬ আসনে তারেক রহমানকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছে। কিন্তু— তিনি এখনো ভোটার নন, দেশে ফেরার সময় ঘোষণা হয়নি, তফসিলের সময়সীমা ঘনিয়ে আসছে এবং তফসিলের পর ভোটার হওয়া প্রায় অসম্ভব।
এসব মিলিয়ে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
অতীতে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় দণ্ড ও দেশত্যাগ—এই দীর্ঘ ১৭ বছরের লন্ডন প্রবাস এখন তার ভোটার পরিচয় ও নির্বাচনী ভবিষ্যতের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
