মতামত || ইউনূস ও তার টিমকে বরখাস্ত করুন

মতামত || ইউনূস ও তার টিমকে বরখাস্ত করুন
শেয়ার করুন

জাহানারা নুরী

হাঁ। বাংলাদেশের জনগণকে বলছি, মুহাম্মদ ইউনূস ও তার টীমকে আপনারা বরখাস্ত করুন ও তাদের আইনের মুখোমুখি করুন।

কেন?  চলুন আলাপ করা যাক বিষয়টি নিয়ে।

১.

আজ বৃহস্পতিবার, আওয়ামী লীগের লকডাউন কর্মসূচী পালন চলছে। জামাত-এনসিপি নেক্সাসের কিছু ছোট দল বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং ও প্রতিবাদী কার্যক্রম চালাচ্ছে। রংপুরের একটি ভিডিওতে দেখা গেল জামাতকর্মীরা কৃষকের ন্যায্য ফসলের দামের দাবীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক স্লোগান দিচ্ছিল:

“আলু না গণভোট,

গণভোট গণভোট।”

এই ভিডিও অসংখ্য প্রমাণের একটি যে, জামাত ই ইসলামের কাছে শ্রমিক ও কৃষকের আর্থিক স্বার্থ বা শ্রমের মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ নয়। নারীর শ্রমের মর্যাদা বিষয়ে তো তাদের ধারনা, মেয়েরা শ্রম দিতে চায় না কিন্তু সমান আর্থিক সুবিধা চায় যে কারণে জামাতের আমীর মেয়েদের শ্রমকে অসম্মান করে “ নারীরা পাঁচ ঘন্টা কাজ করে আট ঘন্টার বেতন পাবে” জাতীয় মূলা ঝুলিয়ে দিয়েছে নারীদের নাকের সামনে। এ সবই প্রমাণ করে ভোট সংগ্রহ ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যই তাদের কাছে প্রধান। জামাতকে ক্ষমতায় আনা এবং বাংলাদেশের সব মানুষ নিজের পায়ে কুড়াল মেরে নিজেদেরে পঙ্গু করে ফেলা, একই কথা।

বিশ্লেষকদের মতে,  তাদের ইসলামী স্টেট আন্দোলন শুধুমাত্র রাজনৈতিক আন্দোলন নয়; বরং এটি একটি স্বার্থান্বেষী আন্দোলন, যেখানে ধর্ম ও রাজনীতি মিলে একটি ব্যাবসা-শিল্প। এ ভাবেই তাদের রাজনীতি পরিচালিত হয়।

দেশের অপামর জনসাধারণ, শ্রমজীবী মানুষ এবং কৃষক-খেটে খাওয়া পরিবারগুলো এদের এই  স্বার্থান্বেষী কৌশলের শিকার হন। যা থেকে দেশের মানুষকে মুক্ত করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত।

গত এক বছরের পরিস্থিতি কি বলে? দেশের উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের জীবন-যাপনের কঠিন বাস্তবতাকে সহনীয় করার দিকে জামাত-বিএনপি- ও নতুন গড়ে ওঠা দলগুলোর মাথাব্যাথা নেই। তারা চায় ক্ষমতায় গিয়ে কলাটা-মূলাটা খেতে।

এমন কি দেশের কিসে ভালো হবে তা তাদের ধর্তব্য নয়। তারা পাকিস্তানের হাতে দেশ তুলে দিয়েছে মুসলমান রাষ্ট্র বলে। ফলে দেশ একটা শত্রুরাষ্ট্রের দাবার ঘুটি হিসেবে চলছে। জামাতের  রাজনৈতিক স্বার্থ দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, জাতির জন্য ক্ষতিকর। বি এন পির তারই দোসর হিসেবে এ ক্ষতি কয়েকশ গুণ বাড়িয়ে তুলেছে।  বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ বিষয়টি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের, নাগরিক সমাজের ও জনসাধারণের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ, শুধু তাই নয়, এটি গোটা দক্ষিণ – এশিয়া উপমহাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরী করেছে। এ কারণেই বাংলাদেশে গোটা দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা ও সমন্বয় সৃষ্টি না হলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হবে সাধারণ জনগণ।

গত এক বছরে জামাতের রাজনৈতিক শারীরিক উপস্থিতি এবং সমাবেশের শক্তি প্রদর্শন এর যে রূপ জনগণ দেখেছে তার শেষ সীমা এই গণভোটের ডাক। মাঝখানে তারা ভাগেযোগে ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিল পি আর পদ্ধতিতে যা ধোপে টেকে নি। তবে তারা দৃশ্যমান ক্ষমতার প্রদর্শনী করে জনমত প্রভাবিত করা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হুমকি ধামকী দেয়া এবং সমর্থকদের মধ্যে সংহতি বৃদ্ধির প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

২.

 জামাতের গণভোটের দাবী আইনের আলোকে দেখা যাক।

২.১. বাংলাদেশের সংবিধান স্পষ্টভাবে প্রজাতন্ত্রের যাবতীয় শক্তির উৎস হিসেবে জনগণকে চিহ্নিত ও প্রতিষ্ঠিত করেছে। Article 7 অনুযায়ী:

“সার্বভৌম ক্ষমতা জনগণের মধ্যে নিহিত।”
এর অর্থ, কোনও গণভোট বা সাধারণ রায় পদ্ধতি সংবিধানের নিয়ম ছাড়া সরকার বা আইন প্রণয়নের জন্য একমাত্র বৈধ মাধ্যম নয়। সরকার বা আইন প্রণয়নের জন্য সংসদে পার্লামেন্টারি ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন অপরিহার্য।

২.২.
বর্তমানে বাংলাদেশে সরাসরি গণভোটের আইন নেই, অর্থাৎ কোন ইস্যুতে জনগণকে সরাসরি ভোটে অংশগ্রহণ করার ব্যবস্থা নেই। সংসদে আইন প্রণয়ন বা নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী কাজ করতে হবে। গণভোটের” উদ্যোগকে কার্যকর করার জন্য নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া, নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন ও বিধি-নিষেধ প্রয়োজন। কঠোর ব্যাবস্থাপনায় সরকারি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি, ভোটার তালিকা, নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া গণভোট কার্যকর হয় না। সে পরিস্থিতি দেশে নেই।

৩. বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি হচ্ছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও হিংস্রতার পরিবেশ। একদিকে, নির্বাচন কমিশন কার্যকরভাবে নিরপেক্ষ নয় বলে সমালোচিত। অপরদিকে,  দুটি ব্যতিত রাজনৈতিক দলগুলোর সবক’টি সদ্য গজানো দল, অনেকেরই রেজিষ্ট্রেশন পাওয়ার পরিস্থিতি বিরাজ করছে না। তারা জুলাইয়ের কোাটা আন্দোলন যা আসলে সহিংস সরকার পরিবর্তনের সহিংস অভ্যুত্থান ব্যতিত আর কিছু ছিল না, সেটাকেই ট্রাম্পকার্ড হিসেবে ব্যবহার করছে।  সহিংসতা ও প্রতিবাদ এই দুই হাতিয়ার নিয়ে একই চেহারার কিছু মানুষ রাজপথে নৈরাজ্য জারী রাখছে। এসবই তারা হাতের তাস হিসেবে হিসেবে ব্যবহার করছে। ফলে ভোটের সময় সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণের যে নিশ্চয়তা তা বাস্তবে নেই।

এই অবস্থায় গণভোট নিরাপদ ও বৈধভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়

গণভোটের দাবীদার জুলাইয়ের সহিংস অভ্যুত্থানকারী রাজনৈতিক দলগুলো ও তাদের নানা ছোট ছোট টীম, যারা দলীয় ও ব্যক্তিগতভাবে বিতর্কিত দলের, এবং নানা আইনী অপরাধের সাথেও জড়িত। জামাত ও তার তরুণ সমর্থক ক্যাডার দল ইসলামী ছাত্র শিবির নিজেই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত জেনোসাইডের অন্যতম পার্টনার হিসেবে মানাবতাবিরোধী অপরাধের লিগ্যাসি বহন করছে। ইসলামী ছাত্রী সংস্থার নারীদের জামাত তাদের পুরুষ সদস্যদের যৌন ক্ষুদার তাড়ান মিটাতে ব্যবহার করে, এটা সেই নব্বুইয়ের দশক থেকে শুনে আসছি।

এখন তারা গণভোটকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।

কাজেই , মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশ্যে ভাষন দিয়ে জানালেও কথিত ভোট প্রক্রিয়ার নৈতিকতা ও সংবিধানিক স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আছে।

সবশেষে কয়েকটি কথা না বললেই নয়।

প্রথমতঃ আইনের দিক থেকে কয়েকটা পাতিদলের রাজনৈতিক গণভোট সংবিধান অনুসারে প্রধান বৈধ ক্ষমতার চ্যানেল নয়। দ্বিতীয়তঃ প্রক্রিয়াগত ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির অভাবে সরকার কোনো কাজই বাস্তবায়ন করতে পরাছে না। নির্বাচন ও একই সাথে গণভোট সংঘটন এই সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। তৃতীয়তঃ রাজনৈতিক সহিংসতা ও পক্ষপাতিত্ব থাকলে, গণভোটের ফলাফল বৈধতা হারায়। বর্তমানে যে সব দল ভোটে অংশগ্রহণ করতে চায় তাদের মধ্যে বি এন পি সহ সব দল জামাতের নেক্সাসের দল, প্রধান বিরোধী চৌদ্দ দল এখন নিষিদ্ধ ও কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে তারা মাঠে নামলেই জেলে যেতে হচ্ছে।

এ পরিস্থিতি সুস্থ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে  নিরুৎসাহিত করার পরিস্থিতি, এবং এ পরিস্থিতিকে সরকারী মদদে সুচিন্তিতভাবে জিইয়ে রাখা হচ্ছে । মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে যে সরকার, তা  নির্বাচন করার, দেশের মঙ্গল করার সদুদ্দেশ্য প্রমাণে ব্যার্থ হয়েছে। তিনি যতই বক্তৃতা দিন না কেন, জনগণের আস্থা তিনি ও তার সরকার হারিয়েছেন। তার ও তার সরকারস্থ সকলের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।

দেশের ও জনগণের ক্ষতি আর প্রলম্বিত না করে যা ক্ষতি করেছেন সে সবের দায় নিয়ে চলে যাওয়া বরং প্রমাণ হবে তাদের মধ্যে সামান্য হলেও মনুষ্যত্ব এবং নৈতিকতা, দেশের ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা কিছুটা এখনও আছে। অবশ্য তারা যদি দেশবাসীকে দেখাতে চান নৈতিকতা ও এথিক্সের দিক থেকে তারা জামাত- ই- ইসলাম ও হিযবুত তাহরীরের সমপর্যায়ের, তাহলে আর বলার কিছু নেই। তাদের নিজের হাতে তৈরী ভাগ্য বরণ করার প্রস্তূতি নিতে পরামর্শ দেবো।

নতুবা বাংলাদেশের জনগণকে বলবো, ”ফায়ার হিম, বরখাস্ত করুন ইউনূসকে।”

জাহানারা নুরী
সুইডেন, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫
Visited 105 times, 1 visit(s) today