তুরস্কে ফুটবল জুয়া কেলেঙ্কারিতে গ্রেপ্তার ৮, হাজারেরও বেশি খেলোয়াড় বরখাস্ত

তুরস্কে ফুটবল জুয়া কেলেঙ্কারিতে গ্রেপ্তার ৮, হাজারেরও বেশি খেলোয়াড় বরখাস্ত
শেয়ার করুন

তুরস্কে ফুটবল জুয়া কেলেঙ্কারিতে দেশজুড়ে ব্যাপক ঝড় উঠেছে। এ ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১,০০০ জনেরও বেশি খেলোয়াড়কে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে তুর্কি ফুটবল ফেডারেশন (TFF)। ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম হাজিওসমানোগলু ঘটনাটিকে “তুর্কি ফুটবলের এক নৈতিক সংকট” বলে অভিহিত করেছেন।

তুর্কি কর্তৃপক্ষ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে শীর্ষ ক্লাব এয়ুপস্পোরের চেয়ারম্যান মুরাত ওজকায়াসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে। একই দিনে TFF ঘোষণা করে, ১,০২৪ জন ফুটবলারকে শৃঙ্খলাভঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত খেলা থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়াদের মধ্যে ২৭ জন সুপার লিগে খেলেন, যার মধ্যে অন্যতম গালাতাসারাইয়ের ডিফেন্ডার ও জাতীয় দলের খেলোয়াড় এরেন এলমালি।

গালাতাসারাই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা “ঘটনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে” এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকবে। এলমালি বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগটি পাঁচ বছর আগের একটি বাজির সঙ্গে সম্পর্কিত, যেখানে তিনি নিজের ক্লাবের নয়, অন্য একটি দলের পক্ষে বাজি ধরেছিলেন, এবং তারপর থেকে তিনি আর কখনো জুয়া খেলেননি।

তদন্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ম্যাচ ফিক্সিং এবং অবৈধ জুয়ায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অক্টোবরের শেষ দিকে এই কেলেঙ্কারিটি প্রকাশ্যে আসে, যখন TFF জানায় যে তাদের তদন্তে দেখা গেছে, তুরস্কের পেশাদার লিগের ৫৭১ জন সক্রিয় রেফারির মধ্যে ৩৭১ জনেরই অনলাইন বেটিং অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যার মধ্যে ১৫২ জন সক্রিয়ভাবে জুয়ায় অংশ নিচ্ছিলেন। এক রেফারি একাই ১৮,২২৭ বার বাজি ধরেছেন, আর ৪২ জন রেফারি এক হাজারেরও বেশি ম্যাচে জুয়া খেলেছেন। কিছু রেফারি মাত্র একবার বাজি ধরলেও তাদের নামও তদন্ত তালিকায় রয়েছে।

তৃতীয় ও চতুর্থ বিভাগের ফুটবল লিগ, যেখানে অভিযুক্তদের অধিকাংশ খেলেন, ইতিমধ্যে দুই সপ্তাহ ধরে স্থগিত রয়েছে। এর আগে, নভেম্বরের শুরুতে TFF ১৪৯ জন রেফারি ও সহকারী রেফারিকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল, কারণ তারাও ফুটবল ম্যাচে বাজি ধরেছিলেন বলে তদন্তে প্রমাণ মেলে।

ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট হাজিওসমানোগলু বলেন, “এটি শুধু একটি আইনি নয়, নৈতিক সংকটও। আমাদের ফুটবলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং আমরা এই কলঙ্ক মুছে ফেলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

এই জুয়া কেলেঙ্কারি বর্তমানে তুরস্কের ক্রীড়াজগতে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে, যা দেশটির পেশাদার ফুটবলের সততা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

Visited 6 times, 1 visit(s) today