নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ২ নভেম্বর : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে স্ট্রং ভল্টের তালা ভেঙে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য আমদানিকৃত আগ্নেয়াস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্য খোয়া যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
গত ১৮ অক্টোবর কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা আরোপ করা হয় এবং সাধারণের চলাচল সীমিত করা হয়। এর মধ্যেই স্ট্রং ভল্টের তালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। জিডি অনুসারে, ২৪ অক্টোবর কার্গো ভিলেজ ও বিমান কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ভল্টের সকল পণ্য তালিকাভুক্ত করে সিলগালা করা হয়। ২৭ অক্টোবর রাতেও তালা অক্ষত ছিল বলে বিমান কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন। কিন্তু ২৮ অক্টোবর সকালে তালা খোলা অবস্থায় দেখা যায়।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাসলিমা আক্তার জিডির বিষয়টি স্বীকার করলেও অস্ত্র খোয়া যাওয়ার ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কার্গো ভিলেজের এক কর্মকর্তা জানান, “অগ্নিকাণ্ডে স্ট্রং ভল্টের কোনো ক্ষতি হয়নি। ২৪ অক্টোবর পরিদর্শনে আগ্নেয়াস্ত্র, মেশিনারিজসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ পণ্য অক্ষত ছিল। আগুনের পর কিছু অস্ত্র আমদানিকারক সরকারি সংস্থা নিয়ে যায়, কিছু অবশিষ্ট ভল্টে রাখা হয়েছিল।”
তালা ভাঙার পর রোববার (২ নভেম্বর) ভল্টের আরেকটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। পূর্বের তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে খোয়া যাওয়া অস্ত্রের পরিমাণ ও ধরন নির্ধারণ করা যাবে বলে জানা গেছে। তবে বিমান কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন।
কার্গো ভিলেজের কর্মচারীরা জানান, স্ট্রং ভল্টে সাধারণত আগ্নেয়াস্ত্র, স্বর্ণ, হীরা ও দামি যন্ত্রাংশ রাখা হয়। এসব পণ্যের তত্ত্বাবধান করে বিমান কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা যায়নি। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ওই সময়ে পাকিস্তান থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বাংলাদেশে প্রবেশ করে, যার সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে লুট হওয়া অস্ত্র যুক্ত হয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ঘটনার তদন্ত চলছে। বিমান মন্ত্রণালয়ের কমিটি শিগগিরই প্রতিবেদন জমা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
