৫ মাসেও উদ্ধার হয়নি জয়পুরহাট থানার লুট হওয়া ১৪ অস্ত্র, ১১০০ গুলি

৫ মাসেও উদ্ধার হয়নি জয়পুরহাট থানার লুট হওয়া ১৪ অস্ত্র, ১১০০ গুলি
শেয়ার করুন
সংবাদ প্রতিবেদন

জুলাই-আগস্টের সরকারবিরোধী আন্দোলনের শেষ দিন ৫ই আগস্ট আন্দোলনকারীরা জয়পুরহাট সদর থানায় হামলা আর অগ্নিসংযোগে পর অস্ত্রাগার থেকে লুট করে নিয়ে যায় প্রচুর অস্ত্র ও গোলাবারুদ। যার মধ্যে কিছু অস্ত্র উদ্ধার হলেও এখনো হদিস পাওয়া যায়নি ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও প্রায় ১ হাজার ১০০ রাউন্ড গুলির।

যদিও জয়পুরহাট জেলা পুলিশের দায়িত্বে যোগদানকারী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাব জানান, থানার লুট হওয়া অস্ত্রগুলো উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ।

তিনি বলেন, যেখানে গিয়েছি, সেখানে লুট হওয়া অস্ত্রের কথা বলেছি। এখনো ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি। এর মধ্যে পুলিশের ৫টি পিস্তল ও একটি চায়না রাইফেল রয়েছে। পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্রগুলো উদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।

জানা গেছে, ৫ই আগস্ট সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীরা জয়পুরহাট সদর থানায় হামলা করেন। এ সময় ওসিসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা থানায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে সেনা সদস্যরা এসে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের থানা থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।

পুলিশদের উদ্ধারে এগিয়ে আসা সেনাবাহিনীর অ্যাকশনে গুলিতে মেহেদি নামের এক যুবক নিহত হন।

আন্দোলনকারীরা সেদিন থানায় ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাটের পর আগুন ধরিয়ে দেয়। তারপর থানার অস্ত্রাগার থেকে ৫১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করে। এ পর্যন্ত মোট ৩৭টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।

সর্বশেষ শুক্রবার র‍্যাব-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্পের সদস্যরা সদর উপজেলার খঞ্জনপুর ঝাউবাড়ি এলাকা থেকে রাইফেলের এক ডজন গুলি উদ্ধার করে। পরে এসব গুলি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‍্যাব জানায়, উদ্ধারকৃত গুলিগুলো জয়পুরহাট সদর থানা থেকে লুট করা হয়েছিল। কেউ গুলিগুলো লুকিয়ে রেখেছিল।

তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

জয়পুরহাট সদর থানার ওসি শাহেদ আল-মামুন বলেন, ৫ই আগস্ট থানার অস্ত্রাগার ভেঙে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করা হয়। বেশিরভাগ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হলেও এখনো ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১ হাজার ১০০ গুলির সন্ধান মেলেনি। ওই ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ৬টি থানা-পুলিশের ও ৮টি স্থানীয়দের লাইসেন্সকৃত অস্ত্র, যা থানায় জমা রাখা হয়েছিল।

আগ্নেয়াস্ত্রগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অস্ত্র লুটের পাঁচ মাস হচ্ছে। বেশিরভাগ অস্ত্র পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। যারা এগুলো নিয়ে গিয়েছিল, তারাই বিভিন্ন স্থানে রেখে পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দিয়েছে, সেগুলোই উদ্ধার হয়েছে। আর যারা ফেরত দেননি, তাদের উদ্দেশ্য ভালো নয়।

Visited 18 times, 1 visit(s) today