নিজস্ব প্রতিবেদক
মিরপুরের রুপনগরের শিয়ালবাড়ী এলাকায় কসমিক ফার্মা নামের কেমিক্যাল কারখানায় উড়ছে ধোঁয়া। দুর্ঘটনার উৎপত্তিস্থল নির্ধারণে কারখানার ভিতরে প্রবেশ করেছেন ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্য, যারা কেমিক্যাল ফায়ার স্যুট পরে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকালে শিয়ালবাড়ী এলাকার কসমিক ফার্মা নামের কেমিক্যাল গোডাউনে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের কারখানার ভিতরে ঢোকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির মিডিয়া সেল কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানিয়েছেন, “ভেতরে প্রবেশের পর পাঁচ মিনিটে তারা বের হয়ে এসেছেন। সদস্যদের প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, পুড়ে যাওয়া গোডাউন থেকে এখনও ধোঁয়া বের হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধোঁয়ার উৎস ও কারখানার অভ্যন্তরে বাকি থাকতে পারে আরও বিপজ্জনক রাসায়নিক, যা নতুন আগুনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কারখানার ভিতরে কমপক্ষে ১০ জন আটকা পড়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারা ইতিমধ্যেই মারা গেছেন। কিন্তু সরকারের কার্যক্রম ও জরুরি পদক্ষেপকে শিক্ষক ও স্থানীয়রা ‘অসন্তোষজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা বিডি ডাইজেস্টকে বলেন, “ভেতরে ঢোকার সময় আমাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ছিল। তথ্য বিশ্লেষণ না হলে বড় পরিসরের উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব নয়। কিন্তু সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আহত বা আটকা পড়াদের বাঁচানোর সুযোগ কমে যাবে।”
দূর্ঘটনার স্থল পরিদর্শন করা স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, “সরকার সময় নষ্ট করছে। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এখনই তৎপর ব্যবস্থা না নিলে অনেকের জীবন ঝুঁকিতে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনায় শুধু ফায়ার সার্ভিসের দক্ষতা নয়, সরকারি তৎপরতার অভাবও বড় ভূমিকা রেখেছে। এ ধরনের রাসায়নিক কারখানার নিরাপত্তা ও জরুরি প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী না করা হলে, ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা এড়িয়ে চলা কঠিন হবে।
ফায়ার সার্ভিস জানাচ্ছে, প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কিন্তু কারখানার অভ্যন্তর এখনও ঝুঁকিপূর্ণ, এবং পরবর্তী অভিযান ধাপে ধাপে হবে।
