জর্জ সরোসের সংস্থার বিরুদ্ধে উগ্রবাদে অর্থায়নের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের

জর্জ সরোসের সংস্থার বিরুদ্ধে উগ্রবাদে অর্থায়নের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের
শেয়ার করুন
আন্তর্জাতিক

ট্রাম্প প্রশাসন জর্জ সোরোসের ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন (ওএসএফ)-এর বিরুদ্ধে Racketeer Influenced and Corrupt Organizations Act (RICO) আইনের অধীনে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের সিনিয়র কর্মকর্তারা OSF-কে “হিংসাত্মক প্রতিবাদ” এবং অন্যান্য অভিযোগযুক্ত অপরাধমূলক কার্যকলাপের জন্য অর্থায়নের দায়ী করেছেন, যদিও এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

ওএসএফ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা হিসেবে অভিহিত করেছে, যা মুক্ত বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক সমাজের ওপর আঘাত বলে দাবি করেছে।

RICO আইন কী?:

RICO আইন (18 U.S.C. § 1961) হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আইন, যা ১৯৭০ সালে সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রণীত হয়েছিল। এটি মূলত মাফিয়া বা সংগঠিত অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়, যারা একটি “প্যাটার্ন অফ র‍্যাকেটিয়ারিং” (যেমন, প্রতারণা, চাঁদাবাজি, মানি লন্ডারিং, সন্ত্রাসবাদে সহায়তা, বা অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যকলাপ) পরিচালনা করে।

RICO-এর অধীনে অভিযোগ প্রমাণিত হলে, ব্যক্তি বা সংগঠনকে গুরুতর শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়। এর মধ্যে রয়েছেঃ

জেলঃ প্রতিটি RICO অভিযোগের জন্য সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড, এবং যদি অপরাধের মধ্যে হত্যা বা গুরুতর অপরাধ জড়িত থাকে, তবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

জরিমানাঃ ২৫০,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা বা অপরাধ থেকে অর্জিত লাভের দ্বিগুণ।

সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণঃ অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি বা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।

নাগরিক মামলাঃ RICO দোষী সাব্যস্ত হলে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ তিনগুণ ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।

এই আইনটি ব্যবহার করে প্রতিবাদ বা সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত সংগঠনগুলোকে “ষড়যন্ত্র” হিসেবে লক্ষ্য করা যায়, যদিও এটি বিতর্কিত এবং মুক্ত বাকস্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তদন্তের পটভূমি:

আগস্ট ২৭, ২০২৫-এ, ট্রাম্প তার Truth Social প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে জর্জ সোরোস এবং তার ছেলে অ্যালেক্স সোরোসের বিরুদ্ধে RICO আইনের অধীনে অভিযোগ গঠনের আহ্বান জানান। তিনি OSF-কে “হিংসাত্মক প্রতিবাদ এবং আরও অনেক কিছুর” জন্য দায়ী করেন।

সেপ্টেম্বর ১২-এ, Fox News-এ ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসন OSF-এর বিরুদ্ধে “RICO কেস” হিসেবে তদন্ত করবে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও OSF-কে “উগ্রবাদী হিংসা” এর সঙ্গে যুক্ত করার দাবি করেন।

সেপ্টেম্বর ২৩-এ, ট্রাম্প একটি প্রেসিডেনশিয়াল মেমোরেন্ডাম স্বাক্ষর করেন, যাতে “বামপন্থী রাজনৈতিক হিংসার অর্থায়নকারী ধনী ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোর” বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়, বিশেষভাবে OSF-এর নাম উল্লেখ করে।

সেপ্টেম্বর ২৫-এ, অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির নেতৃত্বে Department of Justice (DOJ) ছয়টির বেশি U.S. Attorneys’ offices-কে OSF-এর বিরুদ্ধে তদন্ত পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেয়। সম্ভাব্য অভিযোগের মধ্যে রয়েছে RICO, সন্ত্রাসবাদে সহায়তা, wire fraud, এবং অগ্নিসংযোগ। বন্ডি বলেন, “সবকিছুই বিবেচনায় রয়েছে।”

দ্যা নিউইয়র্ক টাইমস এর লিংক

ওএসএফ-এর প্রতিক্রিয়া:

সেপ্টেম্বর ২৬-এ, OSF-এর চেয়ার অ্যালেক্স সোরোস দৃঢ় প্রতিক্রিয়া জানান, “আমরা আমার মৃত্যুর পরেও পিছু হটব না।”

American Civil Liberties Union (ACLU) এই পদক্ষেপকে “আমেরিকান মূল্যবোধের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ” হিসেবে অভিহিত করে। OSF পুনরায় জানায়, “আমরা সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন করি না।”

Capital Research Center-এর একটি রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে অভিযোগ করা হয়েছে যে OSF গত এক দশকে “সন্ত্রাসবাদ বা উগ্রবাদী হিংসার সঙ্গে যুক্ত গ্রুপগুলোকে” ৮০ মিলিয়ন ডলারের বেশি প্রদান করেছে।

OSF, যার সম্পদ প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার, বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার, গণতন্ত্র, এবং ইক্যুইটি গ্রুপগুলোকে অর্থায়ন করে। ট্রাম্পের মিত্ররা এটিকে “অন্ধকার নেটওয়ার্ক” হিসেবে চিত্রিত করলেও, ACLU এবং The Guardian-এর মতো সমালোচকরা এটিকে সোরোসের ডেমোক্রেটিক দলের সমর্থনে (২০২২ মধ্যবর্তী নির্বাচনে ১৭০ মিলিয়ন ডলার) প্রতিশোধ হিসেবে দেখছেন।

RICO-এর সম্ভাব্য প্রভাব:

যদি OSF-এর বিরুদ্ধে RICO অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে সংগঠনটি বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক পরিণতির সম্মুখীন হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে OSF-এর সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ, বিশাল জরিমানা, এবং এর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড। এছাড়া, এটি OSF-এর বিশ্বব্যাপী কার্যক্রম এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক সংগঠনগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে, সমালোচকরা বলছেন, এই তদন্ত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং বাকস্বাধীনতার ওপর হুমকি হিসেবে কাজ করতে পারে।সেপ্টেম্বর ২৯-এ, ট্রাম্প NBC News-এ বলেন, সোরোস “প্রসিকিউশনের সম্ভাব্য প্রার্থী”।

অক্টোবর ২-এ, Reason ম্যাগাজিন এই তদন্তকে “অভূতপূর্ব কেলেঙ্কারি” বলে অভিহিত করে।

কনজারভেটিভ মিডিয়া যেমন Fox News এটিকে সোরোস-সমর্থিত প্রসিকিউটরদের বিরুদ্ধে “lawfare” হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, NYT এবং WaPo-এর মতো আউটলেট এটিকে স্বৈরাচারী পদক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করছে।

X-এ আলোচনায় সোরোসকে নির্বাচন ও NGO-এর সঙ্গে যুক্ত “global RICO” অভিযোগ উঠেছে, যদিও এগুলো অপ্রমাণিত। ২০২৬ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই তদন্ত আরও জোরদার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, যা ডেমোক্রেটিক দাতাদের ভয় দেখানোর কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

৮ অক্টোবর, ২০২৫ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক RICO অভিযোগ দায়ের হয়নি, তবে তদন্ত চলমান। এই পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

Visited 15 times, 1 visit(s) today