নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫: চীনের গাধার চামড়া, মাংস ও হাড়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে পাকিস্তানকে বড় সুযোগ মিলেছে, যখন বাংলাদেশ এই বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে পিছিয়ে পড়ে বঞ্চিত হচ্ছে। চীনা কোম্পানি সাং ইয়াং গ্লোবালের ৩৭ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে পাকিস্তানে ৪০টি বিশেষায়িত গাধা ফার্ম ও পেশোয়ারের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ল্যাব স্থাপন করা হবে, যা বছরে ৮০ হাজার গাধা উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে।
এর ফলে পাকিস্তান চীনের গাধা রপ্তানি চেইনে মূল খেলোয়াড়ে পরিণত হবে, কিন্তু বাংলাদেশে সম্ভাবনা সত্ত্বেও এমন কোনো উদ্যোগের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
পাকিস্তানের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও গবেষণা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, এই প্রকল্পের অধীনে পাকিস্তানের স্থানীয় গাধা জাতগুলোর সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হবে এবং গোয়াদর রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে স্লটারহাউস ও রপ্তানি সুবিধা গড়ে তোলা হবে। চীনের ঐতিহ্যবাহী ওষুধ ‘ইজিয়াও’ তৈরিতে গাধার চামড়ার ব্যবহার এবং মাংস-হাড়ের চাহিদা বাড়ায় এই বিনিয়োগ হয়েছে। প্রথম তিন-পাঁচ বছর গাধা প্রজননের উপর জোর দেওয়া হবে, তারপর থেকে চীনে রপ্তানি শুরু হবে—প্রতি মাসে প্রায় ৬,৬৬৭টি গাধা। এতে পাকিস্তানের গ্রামীণ অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে গাধা চাষ বা চীনায় রপ্তানির কোনো কাঠামোগত পরিকল্পনা নেই। বাংলাদেশের গাধা জনসংখ্যা প্রায় ২.৫ লাখ, যা মূলত পরিবহন ও কৃষি কাজে ব্যবহৃত হয়। ২০২৪ সালে দেশের ঘোড়া, খচ্চর ও গাধার মাংসের বাজার মাত্র ৯৫ হাজার ডলার, যা স্থানীয় খাদ্যের জন্য সীমিত।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ২০২৪ সালে ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, কিন্তু এতে গাধা রপ্তানির কোনো অংশ নেই। চীনা দূতাবাসের সূত্র জানায়, ২০২৫ সালকে চীন-বাংলাদেশ স্থানীয় বিনিময় বছর (China-Bangladesh Year of Localities Exchange) ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু কৃষি রপ্তানিতে গাধা চাষের কোনো উল্লেখ নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আফ্রিকান ইউনিয়নের ২০২৪ সালের গাধা চামড়া রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার পর চীন তার সাপ্লাই চেইন বৈচিত্র্যকরণ করছে। পাকিস্তানের কাছাকাছি অবস্থান এবং সি-পেকের মাধ্যমে সহজ রপ্তানি সুবিধা এই সুযোগ এনে দিয়েছে।
বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের গাধা জাতগুলোর জেনেটিক সংরক্ষণ এবং রপ্তানি সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে, কিন্তু চীনের সঙ্গে এখনও কোনো চুক্তি হয়নি।”
এই বঞ্চনা বাংলাদেশের কৃষি রপ্তানি বৈচিত্র্যের অভাবকে তুলে ধরেছে, যা দেশের অর্থনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। পাকিস্তানের এই উদ্যোগে পশু অধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কারণ গাধা প্রজনন ধীরগতির এবং অসংরক্ষিত চাষ জনসংখ্যা হ্রাস ঘটাতে পারে। বাংলাদেশে এমন প্রকল্প না থাকায় দেশবাসী বলছেন, “চীনের চাহিদা মেটাতে আমাদেরও সুযোগ হলে গ্রামীণ উন্নয়ন হতো।” এখন প্রশ্ন, বাংলাদেশ কতদিন এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকবে?
