জেলা প্রতিনিধি
খাগড়াছড়ির মধুপুর এলাকায় আদিবাসী কিশোরীকে গণধর্ষণের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী কো উক্যনু মারমাকে সেনাবাহিনী অন্যায়ভাবে আটক করার ঘটনা ঘটেছে।
উক্যনু মারমা বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস্ কাউন্সিল (বিএমএসসি), খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। পরে জনগণের প্রতিক্রিয়ার মুখে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
বিএমএসসি এই ঘটনাকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীকে আটক করা অগ্রহণযোগ্য এবং এটি পাহাড়ে আদিবাসীদের ন্যায্য অধিকার ও আন্দোলনের কণ্ঠরোধের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যায়।
বিএমএসসি মনে করে, পাহাড়ে সংঘটিত অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার ফলে আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসাবে চিহ্নিত করার চেষ্টা হচ্ছে।
সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবার অধিকার এবং কেউ অন্যায়মূলক কর্মকাণ্ডের উপরে প্রশ্ন তোলার কারণে বাধ্য নয়।
বিএমএসসি কো উক্যনু মারমাকে অন্যায়ভাবে আটক করার ঘটনার পুনরায় নিন্দা জানিয়ে দ্রুত পাহাড়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং গত ২৩শে সেপ্টেম্বর সংঘটিত ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে খাগড়াছড়ি সদরে এক আদিবাসী কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়। রাত ৯টার দিকে শিক্ষকের কাছ থেকে পড়ে ফেরার পথে ও্ই কিশোরী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় বলে জানান তার বাবা। রাত ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় একটি খেত থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।
কিশোরীর বাবা বুধবার ভোরে সদর থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে প্রাইভেট থেকে ফেরার পথে ওই কিশোরী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়।
কিশোরীর বাবা বলেন, অচেতন অবস্থায় পাওয়ার পর মেয়েকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে এখনো ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমার মেয়ে ধর্ষণে তিনজন জড়িত থাকার কথা জানিয়েছে।
সদর থানা পুলিশ জানায়, তারা ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার রিমান্ডে নিয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও দাবি তাদের। পুলিশ আরো জানায়, ওই কিাশোরীর মেডিকেল টেস্ট করার পর জবানবন্দিও নেয়া হয়েছে।
