নেটিজেনের কথা || অন্তর্বর্তী সরকারের ছাগল হারিয়েছে, এখন বৌকে মা ডাকার সময়

নেটিজেনের কথা || অন্তর্বর্তী সরকারের ছাগল হারিয়েছে, এখন বৌকে মা ডাকার সময়
শেয়ার করুন
ইব্রাহিম খলিল সবাক

গত বছর আগস্ট মাসে, মানে যে মাসের শুরুতে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়লেন; তখনকার উপদেষ্টা নাহিদ বলেছিলেন, তিনি বঙ্গবন্ধুকে জাতির জনক মানেন না।

এক টিভি টকশোতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান এবং সাংবাদিক এম আজিজ। উপস্থাপক খুব ভাব নিয়ে খুশি মনে বললেন, “তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ বলেছেন, তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে মানেন না। এই বিষয়ে…”। আবু আলম শহীদ খান এক সেকেন্ডও চিন্তা না করে বললেন, নাহিদ না মানলে কী আসে যায়, আমি তো মানি; দেশের বেশিরভাগ মানুষ মানে, ইতিহাস মানে।

তিনি নির্ভয়ে সেদিন বলেছিলেন, নাহিদরা চাইলেই ইতিহাস পাল্টে দিতে পারবে না। শুধু তাই নয়, টানা অনেকক্ষণ ধরে তিনি বঙ্গবন্ধুর কথা বলে গেলেন।

এরপর সাংবাদিক এম আজিজও নাহিদের ওপর ক্ষেপে গেলেন। এই দৃশ্য ছিল দেখার মতো। উপস্থাপক নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।

সেই আগস্ট মাসে কোনো বাপের বেটার সাহস ছিল না টকশোতে বসে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এভাবে বুক চিতিয়ে কথা বলার এবং একই সাথে কোনো ছাত্র সমন্বয়কের প্রতি এরকম বিরক্তি প্রকাশ করার। কিন্তু আবু আলম শহীদ খানের সেই সাহস সবসময় ছিল।

সৈয়দ আশরাফ তার মন্ত্রী ছিলেন। যখন সৈয়দ আশরাফকে নিয়ে আওয়ামী লীগেরই একাংশ নিন্দা রটাতো, তার মদ খাওয়া নিয়ে চরিত্রহনন করতো, তখনও আবু আলম শহীদ খান বলেছিলেন, — মদ খাওয়া তার ব্যক্তিগত ব্যাপার; আর দায়িত্বের ব্যাপার হচ্ছে সৈয়দ আশরাফের টেবিলে কখনো ফাইল জমে থাকতো না।

সৈয়দ আশরাফ মন্ত্রী থাকাকালীন যতগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়েছিল, আবু আলম শহীদ খান সেসব নির্বাচন নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি অসংখ্যবার টকশোতে বলেছেন, তার মন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রী কোনোদিনও নির্বাচন নিয়ে তাকে কোনো অনৈতিক নির্দেশনা দেননি। আপনারা জানেন, ওসব নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরাই বেশি জয়ী হতো।

গত এক বছরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সবচেয়ে বড় কণ্ঠস্বর এই আবু আলম শহীদ খান। তার যুক্তিতে ধার আছে। যেসব প্রশ্নে মাসুদ কামাল, আনিস আলমগীররা ঘাইঘুই করে, আবু আলম শহীদ খান কোনো প্রকার দুর্বলতা ছাড়াই সেসব প্রশ্নের জবাব দেন। তার কথা বলার ভঙ্গিও খুব উপভোগ্য। শুধু মুক্তিযুদ্ধ না, সেকুলারিজম, মানবাধিকার, নাগরিক অধিকারের প্রশ্নেও তিনি স্পষ্টভাষী। তার চিন্তাভাবনার ধরন এবং প্রকাশ অসাধারণ।

আমার সবচেয়ে প্রিয় ছিল ভারতের সাথে করা বাংলাদেশের চুক্তিগুলো নিয়ে তিনি যেভাবে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন সবগুলো চুক্তি তন্নতন্ন করে খুঁজেও তিনি ‘গোলামীর’ কিংবা ‘দেশবিরোধী’ কিছু পাননি। —এই মুহূর্তে এভাবে কথা বলা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ আপনারা জানেন। সাবেক এই সচিব সেই ঝুঁকি গত এক বছরের প্রতিদিনই নিয়েছেন।

শুনলাম এই মানুষটিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক সরকারও এ ধরনের বুদ্ধিজীবীকে গ্রেপ্তার করবে না। তিনি তো অত্যন্ত স্বচ্ছ; আওয়ামী লীগের আমলে দিনরাত গুজব ছড়ানো আসিফ নজরুল, ডা. জাহেদদেরও গ্রেপ্তার করা হয়নি।

এই সরকার যেহেতু আবু আলম শহীদ খানের মতো মানুষকেও গ্রেপ্তার করেছে; তার মানে বুঝতে হবে সরকারের ছাগল হারানো গেছে, সরকারের এখন বৌকে মা ডাকার সময়। অর্থাৎ সরকারের সময় ফুরিয়ে এসেছে।

আপনারা শিগগিরই নতুন সরকার দেখতে পাবেন।

শহীদ সাহেবের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

পরিচিতি: ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট

Visited 14 times, 1 visit(s) today