বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির পর ওসির ‘তৈলাক্ত’ পোস্ট: ‘আমিনুল স্যারকে আবারও আহ্বায়ক চাই’

বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির পর ওসির ‘তৈলাক্ত’ পোস্ট: ‘আমিনুল স্যারকে আবারও আহ্বায়ক চাই’
শেয়ার করুন

❐ নিজস্ব প্রতিবেদক


ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার মাত্র দুই দিনের মাথায় এক নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম দিয়েছেন রাজধানীর রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নোমান হোসেন।

সরকারি চাকরিতে বহাল থাকা অবস্থায় তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. আমিনুল হককে আবারও একই পদে পুনর্বহাল দেখতে চেয়ে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেন। এই পোস্টকে অনেকেই ‘তেলবাজি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

পাশাপাশি, ওসি যে বিএনপির একনিষ্ঠ সমর্থক, ক্ষমতাসীন সরকার ও প্রশাসনকে তা ‘চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে’ রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখছেন নেটিজেনরা।

এর আগে, গত ৩০শে সেপ্টেম্বর বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। মো. আমিনুল হক ওই বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক এবং মো. মোস্তফা জামান সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

কমিটি বিলুপ্তির ঠিক দুই দিন পর রূপনগর থানার ওসি নোমান হোসেন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক হ্যান্ডেলে সাবেক ওই বিএনপি নেতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি আমিনুল হককে ‘সৎ, নীতিবান, আদর্শবান ও পরোপকারী মানুষ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে লেখেন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সব জনগণের চাওয়া—আমিনুল হকের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি উল্লেখ করেন, আমিনুল হক সরকারি দায়িত্ব শেষ করে ভোররাত ৫টা-৬টা পর্যন্ত কর্মীদের জন্য নিরলস কাজ করেন।

স্ট্যাটাসের শেষে ওসি লেখেন, “ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সব জনগণ আবার আমিনুল হক স্যারকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চায়।” একই সঙ্গে ভোলা জেলার মানুষের প্রতি তার শুভকামনা ব্যক্ত করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওসির এই পোস্টটি নিমেষেই ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত বা পদ-পদবি নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দিতে পারেন না।

পোস্টটির কমেন্ট বক্সে অনেকে ওসির চরম পেশাদারিত্বহীনতার সমালোচনা করে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন। অবশ্য কিছু সমর্থক পোস্টটির পক্ষেও মন্তব্য করেছেন।

সরকারি পদে থেকে কেন তিনি একটি দলের জেলা/মহানগর কমিটি গঠনে মতামত দিলেন—এ বিষয়ে জানতে রূপনগর থানার ওসি নোমান হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রথা ভেঙে পুলিশ কর্মকর্তার এমন রাজনৈতিক আনুগত্য প্রদর্শন ও প্রকাশ্যে পোস্ট দেওয়াকে ঘিরে প্রশাসনিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর সমালোচনা।

Visited 3 times, 3 visit(s) today