❐ নিজস্ব প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগকে রাজপথে দমন করার লক্ষ্যে মিছিলে নেমে ঢাকার ধামরাইয়ে ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সভাপতি তমিজ উদ্দিন ও ঢাকা জেলা যুবদলের সভাপতি ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদের অনুসারীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন।
আওয়ামী লীগের মিছিল ও রাজনৈতিক অধিকারকে দমন করতে একটি র্যালি করার সময় বিএনপির দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে এই সংঘর্ষে জড়ায়।
গতকাল বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের বালিথা এলাকায় একটি আঞ্চলিক সড়কে একেএইচ নামে পোশাক কারখানার পাশে এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, তমিজ উদ্দিনের অনুসারীদের ১০-১২ জন ও ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদের ১০ অনুসারী আহত হন। তারা হলেন— মো. শরিফুল ইসলাম (৪৪), বাবুল হোসেন, জাহিদ, নাজিরসহ আরও অনেকেই। অধিকাংশেরই পরিচয় জানার সুযোগ হয়নি। তারা ধামরাইয়ের সুতিপাড়া ইউনিয়নের বালিথা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা যায়।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তমিজ উদ্দিন ও ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। একে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজির এলাকার ও বিভিন্ন ধান্দা-ব্যবসার দখল নিয়ে বিরোধ রয়েছে। শনিবার দুপুরে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী তমিজ উদ্দিনের অনুসারীরা ধামরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে র্যালি বের করে। তারা একেএইচ কারখানার সামনে সমাবেশ করার সময় এক কর্মীর সাথে ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদের অনুসারীদের সঙ্গে তর্ক বাধে।
একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে সেখানে জড়িয়ে পড়েন অন্যরাও। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান চৌধুরীর রুমার মেয়ের জামাইসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। তাদের ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হামলায় আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুতিপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলামের মাথায় সেলাই পড়ে। তিনি জানান, বিএনপির মিছিলে তাকে অতর্কিত হামলা করা হয়।
ধামরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সুতিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ছিল। শেষ করে বালিথা পূর্ব পাড়া বাসস্ট্যান্ডে এলে কে বা কারা ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলা করে। আমরা প্রশাসনকে বলতে চাই, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। এরই মধ্যে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
ধামরাইয়ের সুতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রমিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমার মেয়ে জামাই ও এক ছেলের উপর হামলা করা হয়, চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কোপায়। একজনের আঙুল পড়ে গেছে। তারা মোটরসাইকেলে মহড়া দিচ্ছিল, সেখান থেকেই হামলা করা হয়। পুরোটাই প্রতিহিংসা থেকে করেছে। আমার বাড়ির কাছে এসে হামলা করে। গুরুতর আহত হয় বাবুল হোসেন, আমার মেয়ের জামাই জাহিদ, নাজিরসহ আরও অনেকেই। আমি এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেবো।
ধামরাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক বলেন, বালিথা এলাকায় বিএনপির মিছিলে ফ্যাসিবাদের পক্ষের লোক হামলা করলে বেশ কয়েকজন আহত হয়। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে রাখেনি। ঢাকায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রমিজুর রহমান রুমা ১৭ বছর আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিল। সে আওয়ামী লীগের দালাল, সে গুপ্ত। সেই এসব করিয়েছে। সেই জড়িত।
ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শহীদুল ইসলাম বলেন, বালিথা এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন। এর মধ্যে শরিফুল ইসলামের পক্ষে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য পদে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তমিজ উদ্দিন ও ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ। দুজনই আলাদাভাবে নিজের অবস্থান জানান দেন। বিভিন্ন সমাবেশে একে অপরের বিষোদগার করেন। তমিজ উদ্দিন মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হন। আর ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদকে ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ করে সরকার।
সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিনের মুঠোফোনে ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ ধরেননি। ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদও ফোন রিসিভ করেননি।
