❐ জেলা প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলমের সরকারি বাসভবনের সীমানাপ্রাচীরে আঁকা জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের জুলাই-আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলা চালানো আন্দোলনকারীদের আঁকা গ্রাফিতি মুছে নতুন করে সীমানা দেয়ালে রঙ করা হয়েছে। এ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন আন্দোলনের সমর্থকরা। তাদের দাবি, এটি জুলাই-অবমাননার শামিল।
সশস্ত্র জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে গত বছরের ৫ই আগস্ট দেশত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে ময়মনসিংহেও উল্লসিত ছিলেন সরকারবিরোধীরাও। জুলাই স্মরণে ময়মনসিংহের দেয়ালে-দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকে তারা। জেলা প্রশাসকের সরকারি বাসভবনের দেয়ালেও আঁকা হয় নানারকম ছবি।
তবে এখন আর এসব দেখা যাচ্ছে না। জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলমের নির্দেশে গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে জুলাই সমর্থকরা দাবি করছেন, জুলাইয়ের গ্রাফিতি পছন্দ নয় বলেই সরকারি বাসভবনের সীমানা প্রাচীর থেকে এসব মুছে ফেলেছেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম।
নগরীর সার্কিট হাউজ মাঠের পাশে অবস্থিত জেলা প্রশাসকের সরকারি বাসভবনের দেয়ালের গ্রাফিতি এখন আর নেই। দেয়ালজুড়ে নতুন রঙ করা হয়েছে।
নতুন রঙ করার দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাহবুব এন্টারপ্রাইজের কর্মকর্তা নূরে আলম সিদ্দিকী এবং রঙমিস্ত্রি জানালেন, জেলা প্রশাসকের বাসভবনের কাজ পেয়েছেন তাদের প্রতিষ্ঠান। দেয়ালটি আগের চেয়ে কয়েকফুট উঁচু করার পর রঙ করা, কাঁটাতার লাগানোসহ সংস্কার কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাদের। যাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ লাখ টাকা। তারা আরও জানান, দেড় মাস যাবত কাজ চলছে।
নূরে আলম জানালেন, আগের দেয়ালের ওপর কোনো অংশে ২ ফুট, আবার কোনো অংশে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ফুট পর্যন্ত উঁচু করা হয়েছে। নতুন রঙ করা হয়েছে। কাটাতার লাগানো হবে। যুক্ত হবে লাইটিংও। তবে গ্রাফিতির বিষয়ে কোনো কথা হয়নি বলে জানান তারা। সৌন্দর্যবৃদ্ধি আর নিরাপত্তার স্বার্থেই দেয়াল উঁচু করে নতুন রঙ লাগানো হয়েছে বলে জানান তারা।
জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সম্পূর্ণ দেয়াল ১ হাজার ৮০০ ফুট। এরমধ্যে ৩০০ ফুটে কাঁটাতার দেবে ঠিকাদার। কাজ শেষ হতে বেশ কিছুদিন সময় লাগবে। আর বৈদ্যুতিক কাজগুলো করবে অন্য ঠিকাদার। দেয়াল উঁচু করাসহ রাজমিস্ত্রির কাজগুলো শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় ঠিকাদার কাজে হাত দেবেন।
জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে নতুন রঙ করার বিষয়টি নিয়ে বৈছার ময়মনসিংহ জেলা সমন্বয়ক গকূল সূত্রধর জানান, এসব গ্রাফিতিতে উঠে এসেছিল নানা বিষয়। জেলা প্রশাসনের মধ্যে কোন পরিবর্তন হয়নি। তারা ফ্যাসিস্টই আছে এখনো। গ্রাফিতি মুছে সেটাই প্রমাণ করল। আমলাতন্ত্র জুলাইবিরোধী ছিল, এখনও আছে।
ড. ইউনূসের কিংস পার্টি খ্যাত এনসিপির সংগঠক আবুল বাশার জানান, যারা জুলাই চেতনা ধারণ করে না তারা ফ্যাসিষ্টের দোসর। জুলাই চেতনার গ্রাফিতি মুছে ফেলা তাদের জন্য কোন বিষয় না।
ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির জানান, এসব গ্রাফিতি ছিল বিপ্লব উজ্জীবিত করার প্রতীক। এটি মুছে ফেলা কোনভাবেই কাম্য ও গ্রহণযোগ্য নয়।
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রোকনুজ্জামান জানান, গ্রাফিতি রক্তাক্ত জুলাই-আগস্ট চেতনাকে ধারণ করে। জেলা প্রশাসক কেন এটা মুছে ফেলেছেন তার ব্যাখ্যা দিতে হবে।
ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট এএইচএম খালেকুজ্জামান জানান, জুলাই-আগস্ট চেতনার গ্রাফিতি মুছে ফেলা জুলাই অবমাননার শামিল।
গ্রাফিতি মুছে ফেলার বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা (এনডিসি) মো. গালিব জানালেন সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য গ্রাফিতি মুছে দেয়ালে রঙ করা হয়েছে।
