❐ নিজস্ব প্রতিবেদক
মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (মিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন সম্প্রতি জানিয়েছেন, মহেশখালীতে নতুন শহর বা টাউনশিপ পরিকল্পনার জন্য তারা একজন অভিজ্ঞ আরবান প্ল্যানার খুঁজছেন, যিনি অবশ্যই প্রবাসী বাংলাদেশী হতে হবে। এই বক্তব্য বাংলাদেশের স্থপতি সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। দেশীয় স্থপতি ও বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, বাংলাদেশে কি এমন দক্ষ ও অভিজ্ঞ আরবান প্ল্যানার নেই, যে শুধুমাত্র প্রবাসী বাংলাদেশীদেরই প্রাধান্য দিতে হবে?
ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি)-এর সভাপতি স্থপতি জালাল আহমেদ বলেন, “এই ধরনের বক্তব্য দেশীয় স্থপতিদের প্রতি অবিশ্বাস ও অবমাননার সামিল। বাংলাদেশে অসংখ্য দক্ষ স্থপতি ও আরবান প্ল্যানার রয়েছেন, যারা দেশের বিভিন্ন প্রকল্পে সফলভাবে কাজ করেছেন। প্রবাসীদের অভিজ্ঞতাকে সম্মান করলেও দেশীয় প্রতিভাকে অগ্রাহ্য করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
ইউনূস সরকারের শাসনামলে প্রশাসন ও গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিয়োগ নিয়ে ইতোমধ্যে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে, সরকারের ৯০ শতাংশ উচ্চপদে প্রবাসীদের আধিক্য এবং তাদের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যে মিডার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে বিশেষায়িত পদে শুধুমাত্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রাধান্য দেওয়ার ঘোষণা স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. রকিবুল হাসান বলেন, “মিডার এই সিদ্ধান্ত ইউনূস সরকারের দেশীয় স্থপতি, অর্থনীতিবিদ এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের প্রতি অবিশ্বাসের প্রতিফলন। আমাদের দেশে অনেকেই আন্তর্জাতিক মানের প্রকল্পে কাজ করেছেন। তাদের বাদ দিয়ে শুধুমাত্র প্রবাসীদের প্রাধান্য দেওয়া বোধগম্য নয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এ ধরনের নীতি দেশীয় প্রতিভার বিকাশে বাধা সৃষ্টি করবে এবং তরুণদের মধ্যে হতাশা ছড়াবে।”
মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে প্রবাসীদের অবদানকে মূল্যায়ন করলেও, দেশীয় বিশেষজ্ঞদের অবমূল্যায়ন করছে।
একজন স্থপতি ফেসবুকে লিখেছেন, “ইউনূস সরকার যদি দেশীয় প্রতিভার ওপর ভরসা না করে, তাহলে আমরা কীভাবে টেকসই উন্নয়নের স্বপ্ন দেখব?”
অন্যদিকে, মিডার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রবাসী বাংলাদেশীদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এই প্রকল্পে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে দেশীয় স্থপতিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করলে ফলাফল আরও ভালো হতো।”
এই ঘটনা দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক নীতিমালায় প্রবাসী ও দেশীয় বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভারসাম্যের প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মহেশখালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে দেশীয় প্রতিভাকে অগ্রাধিকার না দিলে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়বে, যা ইউনূস সরকারের জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
