প্রবাসীদের বসানো সরকারে প্রবাসীদের পরিবার নিরাপত্তা সংকটে: মাদারীপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রবাসীদের বসানো সরকারে প্রবাসীদের পরিবার নিরাপত্তা সংকটে: মাদারীপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা
শেয়ার করুন
❐ স্থানীয় সংবাদদাতা

ইউনূস সরকার যখন প্রশাসন ও সরকার পরিচালনায় প্রবাসীদের প্রাধান্য দিচ্ছে, তখন সাধারণ প্রবাসফেরত পরিবারগুলো জীবন সংশয়ে দিন কাটাচ্ছে। এরই মধ্যে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বুধবার গভীর রাতে এই হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করেছে।

নিহত পাখি বেগম (২৮) কালকিনির এনায়েতনগর এলাকার উত্তর মাঝের কান্দি গ্রামের বাসিন্দা এবং সৌদি আরব প্রবাসী সোহাগ হাওলাদারের স্ত্রী। এই ঘটনায় পুলিশ এক নারীকে আটক করেছে, তবে হত্যার পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে পাখি বেগম তার চার বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তাদের বসতঘরের চালে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এই শব্দে ঘুম ভেঙে পাখি বেগম দরজা খুলে বাইরে যান। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে তার শিশু সন্তানের সামনেই তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

শিশুটির চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে কালকিনি থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করেছে।

প্রবাসফেরতদের দুর্দশা: নিরাপত্তাহীনতার নতুন মাত্রা

এই ঘটনা প্রবাসফেরত পরিবারগুলোর জন্য ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির একটি উদাহরণ। ইউনূস সরকারের প্রশাসনে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও, সাধারণ প্রবাসফেরতরা তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রবাসীদের পরিবার প্রায়ই দুর্বৃত্তদের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে, কারণ তাদের সম্পদ বা অর্থের প্রতি লোভ থাকে। পাখি বেগমের হত্যার পেছনেও এমন কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “আমরা একজনকে আটক করেছি এবং তদন্ত চলছে। হত্যার পেছনের কারণ উদঘাটনের জন্য আমরা সব ধরনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছি।”

তবে, স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, গ্রামীণ এলাকায় পুলিশের নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপ্রতুল, যা এ ধরনের অপরাধ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব হোসেন মনে করেন, “প্রবাসীদের অর্থনৈতিক অবদানের প্রতি সরকারের গুরুত্ব দেওয়া সত্ত্বেও, তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা সামাজিক অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।” তিনি গ্রামীণ এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার ও প্রবাসী পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুপারিশ করেছেন।

পাখি বেগমের হত্যাকাণ্ড কেবল একটি পৃথক ঘটনা নয়, বরং প্রবাসফেরত পরিবারগুলোর ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির একটি প্রতিফলন। ইউনূস সরকারের প্রবাসীদের প্রশাসনিক প্রাধান্যের মধ্যে সাধারণ প্রবাসীদের পরিবারের নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ না নিলে সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

Visited 4 times, 1 visit(s) today