❐ নিজস্ব প্রতিবেদক
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম ঘোষণা করেছেন, নির্বাচনের আগে পুলিশ বাহিনীতে নতুন করে ৪,০০০ সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হবে। এর অর্ধেক সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে এবং বাকি অর্ধেক পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে বলে তিনি জানান।
বুধবার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান আইজিপি। তবে, এই তড়িঘড়ি ও ব্যাপক নিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে জনমনে সন্দেহ ও প্রশ্ন উঠছে।
পুলিশ সদর দপ্তর গত ২৮ আগস্ট ‘ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি)’ পদে নিয়োগের জন্য জেলাভিত্তিক ২,০০০ শূন্য পদের তালিকা প্রকাশ করে। এতে ঢাকা জেলায় সর্বোচ্চ ১৬৭টি এবং চট্টগ্রামে ১০৬টি শূন্য পদের কথা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এখন হঠাৎ ৪,০০০ এএসআই নিয়োগের ঘোষণা এই প্রশ্ন তুলেছে যে, এত বড় পরিসরে নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা কোথায়?
বিশেষ করে, গত বছর জুলাই-আগস্টে আন্দোলনকারী কর্তৃক হত্যঅর শিকার হওয়া পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা সরকারিভাবে ৫২ জন বলা হলেও, এই বিশাল নিয়োগ পরিকল্পনা সেই সংখ্যার সঙ্গে অসঙ্গতি সৃষ্টি করছে। অনেকে মনে করছেন, প্রকৃত হত্যার সংখ্যা সরকারি তথ্যের চেয়ে বেশি হতে পারে। একাধিক সূত্র বলেছে, এ সংখ্যা সাড়ে তিন হাজারের মত হতে পারে।
এদিকে, বিগত বছরে পুলিশ ও প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান রাজনীতিকরণ নিয়েও সমালোচনা উঠেছে।
বিশ্লেষকদের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচনের আগে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমর্থক, বিশেষ করে জামায়াত-বিএনপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুলিশ বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। এমন পদক্ষেপ নির্বাচনে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছে বলে সন্দেহ পোষণ করা হচ্ছে।
সমালোচকরা বলছেন, জনগণের করের টাকায় পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের এই প্রচেষ্টা জনগণের বিরুদ্ধেই যেতে পারে।
ইউনূস সরকারের অধীনে এই নিয়োগ পরিকল্পনাকে কেউ কেউ ‘জামায়াতি পুলিশ বাহিনী’ তৈরির অংশ হিসেবে দেখছেন। এমন পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার অভাবে জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, নির্বাচনের আগে এত বড় পরিসরে তড়িঘড়ি নিয়োগ প্রক্রিয়া পুলিশ বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
সরকারের কাছে প্রশ্ন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া কীভাবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে? জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা হবে কিনা, তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।

