নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন অর্থবছর ২০২৫-২৬ এর প্রথম মাস জুলাইয়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হার গত বছরের তুলনায় আরও কমেছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সোমবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে এডিপির অর্থ ব্যয় হয়েছে মোট বরাদ্দের মাত্র ০.৬৯ শতাংশ, অর্থাৎ ১৬৪৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই মাসে এই ব্যয় ছিল ২৯২২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যা বরাদ্দের ১.০৫ শতাংশ। এটি গত বছরের তুলনায় ৪৩.৭২ শতাংশ কম। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এই কম বাস্তবায়নকে ‘ভালো লক্ষণ’ হিসেবে দেখছেন না।
রোববার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকের পর তিনি বলেন, “জুলাইয়ের বাস্তবায়ন এক শতাংশেরও কম, যা গত বছরের তুলনায়ও কম। গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্দোলনের কারণে বাস্তবায়ন কম ছিল, কিন্তু এ বছর আরও গতিশীল হওয়ার কথা। পুরনো অজুহাত এখন আর চলবে না।”
তিনি প্রকল্প পরিচালকদের বদলি, ঠিকাদারদের পলায়ন এবং নতুন ঠিকাদার নিয়োগের বিলম্বকে এই ধীরগতির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেট ‘বাস্তবসম্মত’ রাখা হয়েছে, এবং পূর্ণ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সব মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দেওয়া হবে।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণার কারণে ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে সংশোধিত এডিপি ঘোষণার পরিকল্পনাও রয়েছে। গত বছর জুলাইয়ে আন্দোলন, কারফিউ, এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।
আগস্টে সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগ ঘরানার ঠিকাদারদের পলায়ন এবং নতুন সরকারের প্রকল্প পর্যালোচনার সিদ্ধান্তের কারণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়ন ৬৭.৮৫ শতাংশে নেমে আসে, যা আগের বছরের ৮০.৬৩ শতাংশের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম।
আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশকে এত কম বাস্তবায়ন হার আর দেখা যায়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এই সংকটের মূল কারণ। সরকারের পক্ষ থেকে এডিপি বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

