আন্তর্জাতিক
গাজার মানবিক সংকট দিন দিন আরও গভীর হওয়ার প্রেক্ষাপটে, জাতিসংঘ নিউইয়র্কে একটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের আয়োজন করেছে যাতে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বে দুই-রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধানের প্রতি নতুন করে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড় করা যায়।
এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো—ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের জন্য একটি বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা। এতে ৪০টি সদস্য রাষ্ট্র অংশ নিলেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়ই বৈঠকটি বয়কট করেছে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো এই সম্মেলনে বলেন, “শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দুই-রাষ্ট্র সমাধানই ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং নিরাপত্তার বৈধ আকাঙ্ক্ষার উত্তর দিতে পারে। এর কোনো বিকল্প নেই।”
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সম্মেলনে অনুপস্থিত থেকে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে দুই-রাষ্ট্র সমাধানকে কার্যকর মনে করে না। তাদের মতে, এই সম্মেলন চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনায় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে এই সম্মেলনকে “অপ্রয়োজনীয় এবং সময়োচিত নয়” বলে উল্লেখ করে একে “৭ অক্টোবরের হামলার শিকারদের প্রতি চপেটাঘাত” বলেও অভিহিত করেছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের জাতিসংঘ প্রতিনিধি দাবি করেছেন, সম্মেলনটিতে হামাসের নিন্দা কিংবা অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে কোনো কার্যকর আলোচনা না থাকায় তারা এতে অংশ নেয়নি।
তবে সম্মেলনে কানাডা, মেক্সিকো, যুক্তরাজ্য এবং জর্ডানের মতো দেশগুলো হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং অব্যাহতভাবে জিম্মিদের মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে।
সম্প্রতি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দিয়েছেন যে তার দেশ ফিলিস্তিনকে একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে—এটি পশ্চিমা বিশ্বের প্রথম বড় রাষ্ট্র হিসেবে এমন একটি সিদ্ধান্ত।
সম্মেলনটি মঙ্গলবারও চলবে বলে জানানো হয়েছে।
