নিজস্ব প্রতিবেদক। ঢাকা, ২৭শে জুলাই, ২০২৫।
রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে গত ২১ জুলাই বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ৩২ জনের মৃত্যু এবং শতাধিক আহতের ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ছয় দিন পর, গতকাল শনিবার (২৬ জুলাই) রাত ১০টায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আহতদের দেখতে যান। তবে, এই সফর নিয়ে দেশবাসীর মাঝে তীব্র সমালোচনা এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ তিনি এতদিন রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন আদায়ে ব্যস্ত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
দুর্ঘটনার পর থেকে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস শোকবার্তা প্রকাশ এবং তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিলেও, আহতদের সরাসরি দেখতে হাসপাতালে যেতে তার ছয় দিন সময় লেগেছে। এই বিলম্ব নিয়ে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দল, এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন তিনি দ্রুত আহতদের পাশে দাঁড়াননি এবং কেন রাজনৈতিক বৈঠকগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলো। একজন নাগরিক এক্স প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, “দেশের মানুষ যখন শোকে মুহ্যমান, তখন প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক সমর্থন সংগ্রহে ব্যস্ত। এটা কি আমাদের প্রত্যাশিত নেতৃত্ব?”
দুর্ঘটনার পর ড. ইউনূস সোমবার (২১ জুলাই) রাতে একটি আবেগঘন ভিডিও বার্তায় শোক প্রকাশ করে বলেছিলেন, “আমরা মা-বাবাদের কী জবাব দেব? আমরা নিজেদেরই জবাব দিতে পারছি না।” তিনি তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আহতদের চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছিলেন। কিন্তু তার ব্যক্তিগত উপস্থিতি না থাকায় অনেকে মনে করছেন, এই প্রতিশ্রুতিগুলো কেবল মৌখিক ছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ড. ইউনূসের এই বিলম্বিত সফর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জনগণের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একজন বিশ্লেষক বলেন, “নোবেল বিজয়ী একজন নেতার কাছ থেকে জনগণ আরও তৎপরতা ও সহানুভূতিশীল পদক্ষেপ আশা করে। ছয় দিন পর হাসপাতালে যাওয়া জনগণের ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে।”
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ড. ইউনূস দুর্ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য নিশ্চিত করার চেষ্টা করছিলেন। তবে, এই ব্যাখ্যা অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি।
স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, “আহত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর চেয়ে রাজনৈতিক বৈঠক কীভাবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে?” জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে অনেকেই শিশু শিক্ষার্থী, যাদের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অনেকের শরীরে গুরুতর দগ্ধ ক্ষত রয়েছে, এবং তাদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন।
ড. ইউনূসের সফরে তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং আহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে, এই সফর কতটা আন্তরিক ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দেশবাসী এখন প্রধান উপদেষ্টার কাছে দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দ্রুত বিচারের প্রত্যাশা করছে। একই সঙ্গে, এই ঘটনা সরকারের সংকট মোকাবিলার ক্ষমতা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। সমালোচকরা বলছেন, এই মর্মান্তিক ঘটনার পর জনগণের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে আরও তৎপরতা এবং স্বচ্ছতার প্রয়োজন ছিল।
