নিজস্ব প্রতিবেদক। ঢাকা, ২৪ জুলাই ২০২৫।
গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসন্ন নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের জেরে গতকাল রাতে পল্টনের আল রাজী কমপ্লেক্সে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সূত্রের খবর, গণঅধিকার পরিষদ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দেয়। কিন্তু প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় দলের সভাপতি নুরুল হক নুর ও সাবেক আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়ার সমর্থকদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। এই দুই গ্রুপের মধ্যে পূর্ব থেকেই নেতৃত্ব ও কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা চলছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর রেজা কিবরিয়ার অনুসারীরা দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে তালিকা পুনর্বিবেচনার দাবি জানায়। এ সময় নুরুল হক নুরের সমর্থকদের সঙ্গে তাদের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়, যা কিছুক্ষণের মধ্যে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও নথিপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনা সদস্যদের হস্তক্ষেপ করতে হয়।
দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, “প্রার্থী তালিকায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার অভাব রয়েছে। আমরা চাই দলের সকল সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে তালিকা চূড়ান্ত করা হোক।” অন্যদিকে, নুরুল হক নুরের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দাবি করেছে, রেজা কিবরিয়ার গ্রুপ দলের নিবন্ধন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
এ ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি প্রকাশ্যে এসেছে। ২০২৩ সালে দলটি নুর ও রেজার মধ্যে বিভক্ত হয়ে যায়, এবং সম্প্রতি একত্র হওয়ার চেষ্টা সত্ত্বেও এই দ্বন্দ্ব নিরসন হয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা দলের নির্বাচনী প্রস্তুতি ও জনপ্রিয়তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, তারা এ ঘটনার তদন্ত করছে এবং দলের নিবন্ধনের বিষয়ে নতুন করে পর্যালোচনা করা হতে পারে। এদিকে, দলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খান সংযমের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “আমরা আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট সমাধান করতে চাই। দলের ঐক্য আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি, তবে পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদের এই অভ্যন্তরীণ সংঘাত কীভাবে সমাধান হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা জল্পনা।
