ইউনূসকে ফিরিয়ে দিলেও মোদিকে উষ্ণ সংবর্ধনা ও আতিথেয়তা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের

ইউনূসকে ফিরিয়ে দিলেও মোদিকে উষ্ণ সংবর্ধনা ও আতিথেয়তা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের
শেয়ার করুন

ইউরোপীয় প্রতিনিধি। লন্ডন, ২৪ জুলাই ২০২৫।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর দুই দেশের সফরের প্রথম পর্যায়ে ব্রিটেনে পৌঁছেছেন, যেখানে তাঁকে উষ্ণ সংবর্ধনা ও আন্তরিক আতিথেয়তা প্রদান করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এই সফরে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা কেন্দ্রীভূত হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় লন্ডনে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী মোদিকে লন্ডনের রাস্তায় ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে উৎসাহজনক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। শত শত প্রবাসী ভারতীয় তাঁকে স্বাগত জানাতে তাঁর হোটেলের বাইরে জড়ো হন, যেখানে তারা ‘মোদি, মোদি’, ‘ভারত মাতা কি জয়’ এবং ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগানে মুখরিত হন। ঢোলের তালে নাচ ও ভারতীয় পতাকা নাড়িয়ে তারা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, “ইউকেতে ভারতীয় সম্প্রদায়ের উষ্ণ সংবর্ধনায় মুগ্ধ। ভারতের অগ্রগতির প্রতি তাদের ভালোবাসা ও উৎসাহ সত্যিই হৃদয়গ্রাহী।”

আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী মোদি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে তাঁর বাসভবন, ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে, দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি এক পোস্টে বলেন, “আজ আমাদের সম্পর্কের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। বহু বছরের পরিশ্রমের পর, আজ আমরা দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করেছি।”

এই সফরে ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সফরের সময় ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও আয়োজিত হয়, যা ভারতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে। প্রবাসী ভারতীয় গেহনা গৌতম তাঁর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে কাছ থেকে দেখা একটি অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফর ও চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং দুই দেশের জনগণের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। মোদির এই সফর যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসাহের সঞ্চার করেছে এবং ভারত-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

Visited 13 times, 1 visit(s) today