নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে ইউনিট-১ এর কন্টেইনমেন্ট স্ট্রাকচারের স্ট্রেস টেস্ট সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন রোসাটম-এর তত্ত্বাবধানে এই পরীক্ষা পরিচালিত হয়, যা বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।
কন্টেইনমেন্ট স্ট্রাকচার হলো রিঅ্যাক্টরের শেষ প্রতিরক্ষামূলক বাধা, যা দুর্ঘটনা বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে চাপ সহ্য করে পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। পরীক্ষার সময় এই কাঠামোর ওপর ০.৪৫ মেগাপ্যাস্কাল (MPa) চাপ সৃষ্টি করা হয়, যা প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে ৬৫ পাউন্ডেরও বেশি চাপের সমতুল্য।
রোসাটমের তথ্য অনুযায়ী, কন্টেইনমেন্ট স্ট্রাকচার এই অত্যধিক চাপ সফলভাবে উৎরে গেছে, যা এর নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তার মান প্রমাণ করে।
এই পরীক্ষার সফলতার মাধ্যমে ইউরেনিয়াম জ্বালানি স্থাপনের পূর্বশর্ত পূরণ হয়েছে, যা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১ চালুর দিকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই অর্জন বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
রোসাটমের প্রকৌশলী ও বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই পরীক্ষা সফল হয়েছে। রূপপুর প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাস্তবায়নের পেছনে যে নেতৃত্ব, পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কাজ করেছে, তা মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ের। ২০১১ সালে রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে চুক্তি করে আওয়ামী লীগ সরকার। ২০১৩ সালে শুরু হয় নির্মাণের আনুষ্ঠানিকতা। ২০১৭ সালে কেন্দ্রটির মূল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থা রোসাটমের মাধ্যমে ৯৩ শতাংশ ঋণ সহযোগিতায় (প্রায় ১১.৩৮ বিলিয়ন ডলার) এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ তৈরি হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত চুক্তি এটি।
