মালিতে সামরিক ঘাঁটিতে জঙ্গি হামলা, নিহত ৮০-এর বেশি

মালিতে সামরিক ঘাঁটিতে জঙ্গি হামলা, নিহত ৮০-এর বেশি
শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক

মালির বিভিন্ন শহরে একযোগে বেশ কয়েকটি সামরিক চৌকিতে হামলা চালিয়েছে জিহাদি যোদ্ধারা। গত এক মাসে দেশটির সেনাবাহিনীর ওপর এটি তৃতীয় বড় ধরনের হামলা।

মঙ্গলবার সকালের এই হামলাগুলো প্রতিহত করার দাবি করেছে মালির সেনাবাহিনী। তারা জানিয়েছে, অভিযানে ৮০ জনেরও বেশি জঙ্গিকে “নিষ্ক্রিয়” করা হয়েছে। তবে সেনাবাহিনী কোনো সৈনিকের প্রাণহানির কথা স্পষ্ট করেনি।

আল-কায়েদা-সম্পৃক্ত সংগঠন জামা’আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (JNIM) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে, তিনটি সামরিক ব্যারাকের নিয়ন্ত্রণ তারা দখলে নিয়েছে।

দেশটির জাতীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল সুলেমানে ডেম্বেলে বলেন, “প্রত্যেকটি স্থানে শত্রুরা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার করেছে।”

তিনি আরও জানান, হামলাকারীদের কাছ থেকে অস্ত্র, যানবাহন ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশের সাতটি শহর ও গ্রামে এই হামলা হয়েছে, যার মধ্যে বাইনলি, কায়েস এবং সান্দেরে অন্যতম—এই অঞ্চলগুলো সেনেগালের সীমান্তবর্তী। উত্তরাঞ্চলে মৌরিতানিয়ার সীমানার কাছেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

কায়েস শহরের এক বাসিন্দা বিবিসিকে জানান, হামলার সময় “চারপাশে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল।” তিনি আরও বলেন, “পুলিশ স্টেশন এবং গভর্নরের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে,” তবে হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যায়নি।

JNIM তাদের হামলাকে “সমন্বিত এবং উচ্চমানের” বলে আখ্যায়িত করেছে। তারা যদিও নিজদের ক্ষয়ক্ষতির কোনো বিবরণ দেয়নি।

এই গোষ্ঠী এর আগেও মালিতে দুটি বড় হামলার দায় নিয়েছে। গত ২ জুন তিম্বুক্তু শহরে একটি সামরিক ঘাঁটি ও বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়। তার একদিন আগেই মধ্যাঞ্চলে এক হামলায় অন্তত ৩০ জন সেনা নিহত হয়।

এই ধারাবাহিক হামলা মালি ও বিস্তৃত সাহেল অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি নির্দেশ করে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা কমান্ড (Africom) আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, সাহেল অঞ্চলের বিভিন্ন ইসলামি সশস্ত্র গোষ্ঠী পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলে প্রবেশের চেষ্টা করছে।

মে মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে আফ্রিকম প্রধান জেনারেল মাইকেল ল্যাংলি বলেন, নাইজেরিয়া, সাহেল অঞ্চল এবং লেক চাদ বেসিনে সাম্প্রতিক হামলাগুলো গভীর উদ্বেগের বিষয়। তিনি সতর্ক করেন, এই গোষ্ঠীগুলোর উপকূলে প্রবেশ তাদের অস্ত্র ও চোরাচালান কার্যক্রমকে বহুগুণে বাড়িয়ে তুলবে।

Visited 2 times, 1 visit(s) today