কিস্তির টাকার জন্য গ্রাহকের বৃদ্ধা মাকে বাইরে রেখে ঘরে তালা দিল ব্র্যাক কর্মী

কিস্তির টাকার জন্য গ্রাহকের বৃদ্ধা মাকে বাইরে রেখে ঘরে তালা দিল ব্র্যাক কর্মী
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় ঋণের এক মাসের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় গ্রাহকের ঘরে তালা দিল এনজিও ব্র্যাক প্রগতি অফিসের এক ফিল্ড অফিসার।

ঘটনাটি ঘটে গত ২৫শে জুন। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে তালা খুলে দেওয়া হয় তিন দিন পর, ২৮শে জুন। এর আগে বৃদ্ধা মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে নবীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হিল্লোল তালুকদার ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টির মীমাংসা করেন।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান গতকাল (২৮শে জুন) দুপুরে বলেন, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ গিয়ে তালা খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। পরে বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধান হয়েছে।”

তবে যেভাবে এক বৃদ্ধা মাকে ঘরের বাইরে রেখেই ঘরে তালা দেওয়া হয়েছিল, তা ঘোরতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, অরবিন্দু আচার্য্য নামের এক ব্যক্তি গত ২রা ফেব্রুয়ারি ব্র্যাকের প্রগতি এনজিওর নবীগঞ্জ শাখা থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নেন। এরপর মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসের কিস্তি যথাসময়ে পরিশোধ করেন তিনি। কিন্তু চলতি জুন মাসে তিনি বাড়ির বাইরে থাকায় কিস্তির টাকা দিতে পারেননি।

এ সুযোগে গত ২৪শে জুন, মঙ্গলবার ব্র্যাকের ফিল্ড অফিসার সুরঞ্জিত পুরকায়স্থ তার বাড়িতে গিয়ে অরবিন্দুকে না পেয়ে তার মা’কে জানান ঋণ পরিশোধের কথা। পরদিন ২৫শে জুন আবারও বাড়িতে গিয়ে বৃদ্ধা মাকে না পেয়ে, ঋণের জামিনদারকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে দেন সুরঞ্জিত।

ঘটনার সময় অরবিন্দুর মা বাড়ির বাইরে ছিলেন। ফিরে এসে তালাবদ্ধ ঘর দেখে তিনি হতবাক হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে পুরো ঘটনা জেনে নবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

থানার এএসআই হিল্লোল তালুকদার তদন্ত করে ঘটনাটি সত্য প্রমাণিত হওয়ায় তালা ভেঙে বৃদ্ধাকে ঘরে প্রবেশের ব্যবস্থা করেন।

এ ঘটনার পর নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কোনো এনজিও কর্মকর্তা আইনগতভাবে গ্রাহকের ঘরে তালা দিতে পারেন না। এটি একটি স্পষ্ট অপরাধ।”

তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরাও মনে করছেন, ঋণ আদায়ের নামে একজন বৃদ্ধার ঘর এভাবে তালা দেওয়া অমানবিকতার পরিচায়ক। এনজিও কার্যক্রমে এমন আচরণ নাগরিক নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং এনজিওগুলোর জবাবদিহিতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

Visited 9 times, 1 visit(s) today