সঞ্চয়পত্রে ধস, রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থতা: বাড়ছে অর্থনৈতিক সংকট

সঞ্চয়পত্রে ধস, রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থতা: বাড়ছে অর্থনৈতিক সংকট
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমান সরকারের সময়ে সঞ্চয়পত্র খাতে ঋণ সংগ্রহের চিত্র বেশ উদ্বেগজনক। এই খাত থেকে সরকারের ঋণ কমছেই। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (এপ্রিল পর্যন্ত) সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ কমেছে ৭ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা। যদিও শুধুমাত্র এপ্রিল মাসে হঠাৎ করেই ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ হয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাসভিত্তিক সুদ পরিশোধের চাপ কম থাকায় এ মাসে ঋণ গ্রহণ কিছুটা বেড়েছে।

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবে মানুষের সঞ্চয় করার ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। এর সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট তৈরি হওয়ায় আমানতের সুদহার বেড়ে গেছে, ফলে মানুষ ঝুঁকছে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের দিকে, যেখানে কর নেই এবং সুদহার তুলনামূলক বেশি (১২ শতাংশের আশপাশে)। সঞ্চয়পত্রে মুনাফার ওপর ৫-১০ শতাংশ কর কর্তনের কারণে সাধারণ মানুষ এতে আগ্রহ হারাচ্ছে।

সরকার প্রতিবছর বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নিলেও, সঞ্চয়পত্র থেকে প্রত্যাশিত অর্থ আসছে না। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও, পরে তা কমিয়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা করা হয়। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, লক্ষ্যমাত্রা পূরণ তো দূরের কথা, উল্টো ঋণ কমছে।

এই অবস্থার পুনরাবৃত্তি হয়েছে টানা তিন অর্থবছর। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকারের ঋণ কমেছে ৩ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে যেখানে ঋণ বেড়েছিল ১৯ হাজার ৯১৬ কোটি টাকা, তারপর থেকেই প্রবণতা উল্টো পথে। গত অর্থবছরে এই খাত থেকে ঋণ হ্রাস পেয়েছে বিশাল অঙ্কে- ২১ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। এপ্রিল শেষে সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, রাজস্ব আদায়েও সরকার কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছে না। এপ্রিল পর্যন্ত রাজস্ব আয় ২ লাখ ৮৯ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় মাত্র ৩.৯৬ শতাংশ বেশি। অথচ ব্যয় বেড়েই চলেছে- বিশেষ করে পুরনো ঋণের সুদ ও পরিচালন ব্যয়ে। ফলে সরকার এখন ব্যাংক ঋণের ওপর আরও নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যদিও সেটিও বাজেটের তুলনায় এখনও কম।

আগামী অর্থবছরের জন্য বাজেটের আকার কমিয়ে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ব্যাংক থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।

Visited 8 times, 1 visit(s) today