দ্য ডিপ্লোম্যাট: মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে জার্মান সম্পৃক্ততা: এইচকে ব্র্যান্ডের অস্ত্রের ছড়াছড়ি!

দ্য ডিপ্লোম্যাট: মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে জার্মান সম্পৃক্ততা: এইচকে ব্র্যান্ডের অস্ত্রের ছড়াছড়ি!
শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক

দ্য ডিপ্লোম্যাট: মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে জার্মান সম্পৃক্ততা: এইচকে ব্র্যান্ডের অস্ত্রের ছড়াছড়ি!

মিয়ানমারের স্বাধীনতার পর থেকে দেশটিতে চলমান গৃহযুদ্ধে জার্মান অস্ত্র নির্মাতা ব্র্যান্ড হেকলার অ্যান্ড কচ (এইচঅ্যান্ডকে)-এর অস্ত্রের ভয়াবহ ভূমিকা সম্পর্কে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য ডিপ্লোম্যাট।

এইচঅ্যান্ডকে-এর অস্ত্র, বিশেষ করে জি৩ এবং এইচকে৩৩ রাইফেল, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠী উভয়ের হাতেই রয়েছে। যা দেশটির দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।

১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর মিয়ানমার জাতিগত বিদ্রোহ, সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব এবং সামরিক অভ্যুত্থানের মতো একাধিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এই সময়ে, নবগঠিত সরকার তাদের সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করতে এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে বিদেশি অস্ত্রের দিকে ঝুঁকতে শুরু করে।

১৯৬০ সালে তৎকালীন উ নু সরকার জার্মান প্রতিষ্ঠান ফ্রিৎজ ভের্নারের মাধ্যমে এইচঅ্যান্ডকে জি৩ রাইফেল উৎপাদনের লাইসেন্স পায়। এই অস্ত্রটি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জন্য একটি আধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল হিসেবে সাদরে গৃহীত হয়, যা বিদ্রোহ দমন এবং প্রচলিত যুদ্ধের জন্য উপযোগী ছিল।

দ্য ডিপ্লোম্যাটের প্রতিবেদন বলছে, এইচঅ্যান্ডকে-এর অস্ত্র মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী (Tatmadaw) এবং সরকার-বিরোধী বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে পৌঁছেছে। সামরিক বাহিনী এখনো তাদের দেশীয়ভাবে উৎপাদিত জি৩ (বিএ৬৪) এবং এইচকে৩৩ (এমএ১১) রাইফেলের ওপর নির্ভরশীল, যা সংঘাতে লিপ্ত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোও সংগ্রহ করছে।

অপরদিকে, বিদ্রোহী গোষ্ঠী, যেমন- কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি সরকারি অস্ত্রাগার থেকে লুণ্ঠিত এইচকে৩৩ রাইফেল ব্যবহার করে। দক্ষিণ-পূর্ব মিয়ানমারে পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের (পিডিএফ) একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে পাওয়া পশ্চিম জার্মানি-নির্মিত এইচকে৩৩ রাইফেল এই অস্ত্রের বিস্তৃত উপস্থিতির প্রমাণ বহন করে।

১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এইচঅ্যান্ডকে জার্মানির ওবার্নডর্ফে অবস্থিত। এর প্রতিষ্ঠাতা এডমুন্ড হেকলার, থিওডর কচ এবং অ্যালেক্স সিডেল, যারা থার্ড রাইখের সামরিক-শিল্প কারখানায় কাজ করতেন। কোম্পানিটি সমরাস্ত্র প্রকৌশলী মাউজার-এর প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, যিনি ছিলেন নাৎসি জার্মানির অস্ত্র সরবরাহকারী ও অস্ত্র নির্মাতা।

এইচঅ্যান্ডকে-এর জি৩ রাইফেল ১৯৫৯ সালে পশ্চিম জার্মান বুন্দেসভেরের জন্য প্রথম উৎপাদিত হয়। বিশ্বব্যাপী ৭০টিরও বেশি দেশে অস্ত্রটি রপ্তানি করা হয়েছে এবং ১৫টি দেশে লাইসেন্সের অধীনে উৎপাদিত হয়। মিয়ানমার ছাড়াও, ইরান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড এবং তুরস্কের মতো দেশগুলো এই অস্ত্রের লাইসেন্স অর্জন করেছে।

ডিপ্লোম্যাটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এইচঅ্যান্ডকে ব্র্যান্ডের অস্ত্র মিয়ানমারের বিবদমান সকল পক্ষের হাতে এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে, গৃহযুদ্ধ আরও তীব্রতর হচ্ছে, সংঘাত আরও উস্কে দিচ্ছে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে তৎমাদৌ এবং পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের মধ্যে সংঘর্ষে এই অস্ত্রগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এইচঅ্যান্ডকে ব্র্যান্ডের অস্ত্রের এই ব্যাপকতা বিশ্বব্যাপী অস্ত্র বাণিজ্য এবং শীতল যুদ্ধের একটি উদ্বেগজনক দিক নিঃসন্দেহে।

Visited 17 times, 1 visit(s) today