নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত ‘অঞ্জলি লহ মোর’ ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট ১২১ জন নাগরিক। শিল্পী মণীন্দ্র দত্তের নির্মিত এই ভাস্কর্যটি প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদের নাচের মুদ্রা দ্বারা অনুপ্রাণিত। এটি শুধু একটি শিল্পকর্মই নয়, বরং নারীর স্বাধীনতা, মানবিক সাধনা ও শিল্প-সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
এক যৌথ বিবৃতিতে এই নাগরিকরা জানিয়েছেন, ভাস্কর্য ধ্বংসের ঘটনা শুধু শিল্পের প্রতি আঘাত নয়, বরং দেশের সাংস্কৃতিক ও মানবিক চেতনার উপর হামলা।
তারা আরও উল্লেখ করেছেন, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রতীক ধ্বংসের এই প্রবণতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা রাজনৈতিক উগ্রতা ও ধর্মীয় কট্টরতার ফল। এর আগেও মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিদ্রোহের প্রতীক, মাজার-দরগা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনার উপর হামলার ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিক ও প্রগতিশীল নাগরিকরা।
তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক খান, কবি ড. খালেদ মোহাসিন, কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, সাংবাদিক জাকির তালুকদার, কবি হাসানআল আব্দুল্লাহ, সাহিত্যিক ড. নুরুন নবী, গীতিকার তাজুল ইমাম, কবি জুয়েল মাজহার, শিল্পী হামিম কামরুল হক, সাংবাদিক মাহবুব আজিজ প্রমুখ।
তারা এই ধরনের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং এটিকে জাতীয় ঐতিহ্য ও অগ্রগতির পথে অন্তরায় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এই ঘটনা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে জাতীয় লজ্জার কারণ হতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।
নাগরিকরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি এই ধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন।
সংযুক্তি: বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের তালিকা
