গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-ভাতার দাবিতে যমুনা অভিমুখে গণমিছিল, কাকরাইল মোড়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ

গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-ভাতার দাবিতে যমুনা অভিমুখে গণমিছিল, কাকরাইল মোড়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুর ও আশুলিয়ার ৯টি গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনার দাবিতে মঙ্গলবার (২০ মে) বিকেল তিনটা থেকে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। গাজীপুরের সিএনজেড গ্রুপের ৮টি কারখানা এবং আশুলিয়ার চেইন অ্যাপারেলস লিমিটেডের শ্রমিকরা এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।

শ্রমিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাদের বেতন বন্ধ রয়েছে, যার ফলে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেক শ্রমিক টানা তিন মাসের বাসা ভাড়া পরিশোধ করতে পারেননি এবং স্থানীয় দোকানে বাকি পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন। এর আগে তারা শ্রম ভবন থেকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের দিকে ‘মার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচি নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। কিন্তু কাকরাইল মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়ে তারা সেখানেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে শ্রম ভবনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তারা ঘোষণা দিয়েছেন, ন্যায্য বেতন-ভাতা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত কাকরাইল মোড়ে অবস্থান অব্যাহত রাখবেন। এ সময় তারা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। রোজার ঈদের আগে থেকে তাদের বেতন ভাতাদির জন্য আন্দোলন আর অবস্থান ধর্মঘট শুরু হয়। শ্রম উপদেষ্টা গার্মেন্টস ম্লাইকের সম্পদ বিক্রি করে শ্রমিকদের বেতন ভাতাদি শোধ করার কথা বললেও, কার্যত কেউ কন ব্যাবস্থা নেয় নি।

ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকারের ‘মবোক্রেসি’  ভয়ে গার্মেন্টস খাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন এবং কারখানা বন্ধ হয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২ লাখ গার্মেন্টস শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। এছাড়া, গত কয়েক মাসে গাজীপুর, আশুলিয়া ও সাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৫০টি গার্মেন্টস ও শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রমিক ও শিল্প সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, অস্থিতিশীল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মালিকপক্ষের আর্থিক সংকটের কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অবরোধের ফলে কাকরাইল মোড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে, যা নগরবাসীর জন্য ব্যাপক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

Visited 42 times, 1 visit(s) today