নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল পাকিস্তান সফরে যাবে কি না, এই নিয়ে একটা আলোচনা চলছিল। সেই আলোচনার আপাতত ইতি। খবর হলো, ক্ষমতাসীন অন্তর্বতী সরকার বলেছে, পাকিস্তান সফরে যেতে তাদের কোনো আপত্তি নেই, তারা সবুজ সংকেত দিয়েছে। মানে, সরকারের দিক থেকে কোনো বাধা নেই। এই খবরটা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এখন বিসিবির কাজ হলো দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলা। কারণ শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়দের মতামতটাই আসল। বিসিবি স্পষ্ট করে বলেছে যে তারা কোনো ক্রিকেটারকে পাকিস্তানে যেতে জোর করবে না। কারণ, এটা তো আর যা-তা ব্যাপার না, নিরাপত্তার বিষয় আছে। সরকার রাজি হলেও ক্রিকেটারদের মনে দ্বিধা থাকতে পারে। তাই বিসিবি তাদের খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দেবে।
বাংলাদেশ দল এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আছে। সেখানে তারা আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুটো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে। প্রথম ম্যাচটা হবে শনিবার, আর দ্বিতীয়টা সোমবার। কথা ছিল, এই ম্যাচগুলো শেষ করে দল সরাসরি দুবাই থেকে পাকিস্তানে যাবে। সেখানে পাকিস্তানের সাথে পাঁচটা টি-টোয়েন্টি খেলার কথা ছিল।
কিন্তু ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ হওয়ার পর পাকিস্তান সফরটা নিয়ে একটু অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এর মধ্যে বিসিবির পরিচালক ইফতেখার আহমেদ মিঠু পরিষ্কার করে বলেছেন যে তারা কোনো খেলোয়াড়কে পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য চাপ দেবেন না।
আগে ঠিক ছিল, পাকিস্তানের সাথে টি-টোয়েন্টি সিরিজটা শুরু হবে মে মাসের ২৫ তারিখে। তবে এখন এটা পিছিয়ে যাচ্ছে, এটা নিশ্চিত। কারণ হলো, ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার কারণে পাকিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ, পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল), মাঝপথে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই খেলাগুলো আবার শুরু হচ্ছে এই শনিবার। নতুন সময়সূচী অনুযায়ী, পিএসএলের ফাইনাল ম্যাচ হবে মে মাসের ২৫ তারিখেই। তাই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বাংলাদেশের সঙ্গে সিরিজের নতুন সময়সূচী পাঠিয়েছে। সেই অনুযায়ী, সিরিজটা শুরু হতে পারে মে মাসের ২৭ তারিখে।
বিসিবি দলকে পাকিস্তান পাঠাতে চায়, সরকারও চায়। এই অবস্থায় ক্রিকেটারদের আপত্তি হয়ত ধোপে টিকবে না।
