তীব্র থেকে তীব্রতর ভারত-পাকিস্তান সংঘাত: পরস্পরের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা

তীব্র থেকে তীব্রতর ভারত-পাকিস্তান সংঘাত: পরস্পরের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা
শেয়ার করুন

নয়াদিল্লি প্রতিনিধি

ইসলামাবাদ/নয়াদিল্লি, ১০ মে ২০২৫: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘাত শনিবার (১০ মে) তীব্র আকার ধারণ করেছে। উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ তুলেছে, যা দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। এই সংঘাত গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া সামরিক সংঘর্ষের চতুর্থ দিনে আরও তীব্র হয়েছে।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ভারত শনিবার ভোরে তাদের অন্তত তিনটি বিমান ঘাঁটিতে এয়ার-টু-সারফেস ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী ইসলামাবাদের কাছে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ নূর খান বিমান ঘাঁটিও রয়েছে। রাওয়ালপিন্ডির স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তারা তিনটি উচ্চ শব্দের বিস্ফোরণ শুনেছেন এবং একটি বড় আগুনের গোলা দূর থেকে দৃশ্যমান হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এক টেলিভিশন বক্তৃতায় ভারতের এই হামলাকে “বিপজ্জনক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার” প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এই হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তান ঘোষণা করে যে তারা ভারতের একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে শর্ট-রেঞ্জ সারফেস-টু-সারফেস ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পাল্টা হামলা শুরু করেছে। লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে উধমপুর এবং পাঠানকোট বিমান ঘাঁটি এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ স্থাপনা অন্তর্ভুক্ত। পাকিস্তান এই অভিযানের নাম দিয়েছে “অপারেশন বুনিয়ান আল-মারসুস”, যার অর্থ কোরআন থেকে নেওয়া একটি বাক্যাংশ, “দৃঢ় ও কমপ্যাক্ট কাঠামো”। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এই হামলাকে “চোখের বদলে চোখ” হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্র জানিয়েছেন, পাকিস্তানের “উস্কানিমূলক এবং উত্তেজনা বৃদ্ধিকারী” কর্মকাণ্ডের জবাবে ভারত “দায়িত্বশীল ও পরিমিত” পদক্ষেপ নিয়েছে। ভারত দাবি করেছে, পাকিস্তান শুক্রবার রাতে ৩০০ থেকে ৪০০ ড্রোন দিয়ে ভারতের ৩৬টি সামরিক স্থাপনায় হামলার চেষ্টা করেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা পাঞ্জাবের আমৃতসরে সামরিক ঘাঁটির উপর দিয়ে উড়ন্ত একাধিক “শত্রু ড্রোন” ধ্বংস করেছে। ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলোতে, যেমন জম্মু, সাম্বা এবং পাঠানকোটে ড্রোন উপস্থিতি এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার খবর পাওয়া গেছে।

পাকিস্তানের দাবি, ভারতের হামলায় এ পর্যন্ত ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৫৭ জন আহত হয়েছেন। ভারত জানিয়েছে, পাকিস্তানের গোলাবর্ষণে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে ১৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে তিনজন নারী ও পাঁচটি শিশু রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে পালিয়ে যাচ্ছেন, এবং উভয় দেশে বিমানবন্দর ও স্কুল বন্ধ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উভয় দেশকে সংযম প্রদর্শন এবং সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব এবং চীন সহ বিভিন্ন দেশ মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার বলেছেন, ভারত যদি হামলা বন্ধ করে, তবে পাকিস্তানও পাল্টা হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী দাবি করেছে, পাকিস্তান এখনও তাদের সৈন্যকে সীমান্তে সরিয়ে নিচ্ছে, যা তারা “আগ্রাসী মনোভাব” হিসেবে দেখছে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে এই সংঘাত পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার পর্যন্ত গড়াতে পারে, যা বিশ্বের জন্য বিপর্যয়কর হবে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রবীণ বিশ্লেষক প্রবীণ ডনথি বলেছেন, “উভয় দেশই জনগণের চাপে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে, যা সংঘাতকে আরও জটিল করছে।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন।

সর্বশেষ পরিস্থিতি

শনিবার রাত পর্যন্ত উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক হামলা অব্যাহত রয়েছে। ভারতের সেনাবাহিনী তার স্বেচ্ছাসেবী রিজার্ভ ফোর্স, টেরিটোরিয়াল আর্মিকে সংগঠিত করছে, তবে বড় ধরনের স্থল সৈন্য সরানোর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা তাদের সময় ও স্থানে “যথাযথ জবাব” দেবে। সীমান্তবর্তী কাশ্মীর অঞ্চলে গোলাগুলি তীব্র হয়েছে, এবং উভয় পক্ষের বেসামরিক মানুষ এই সংঘাতের ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করছে।

এই সংঘাত কোথায় গিয়ে থামবে, তা এখনও অনিশ্চিত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ এবং মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
(সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, সিএনএন, দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স)

Visited 170 times, 1 visit(s) today