যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাতেই ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধ: ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান জয়শঙ্করের

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাতেই ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধ: ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান জয়শঙ্করের
শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ভারত-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত পুরোপুরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ফল। এতে যুক্তরাষ্ট্রসহ কোনো তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা ছিল না। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম NOS-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়শঙ্কর বলেন, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে, আর ভারত তার বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখানোর অধিকার রাখে।

জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ২২শে এপ্রিলের ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত “অপারেশন সিন্দুর” পরিচালনা করে। এতে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত ৯টি সন্ত্রাসী ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এতে জইশ-ই-মোহাম্মদ, লস্কর-ই-তৈয়বা ও হিজবুল মুজাহিদীনের মতো সংগঠনের ১০০-র বেশি জঙ্গি নিহত হয়।

জয়শঙ্কর বলেন, “এই অভিযান একটি কৌশলগত বার্তা বহন করে—যদি ২২শে এপ্রিলের মতো হামলা আবার হয়, আমরা চুপ থাকব না। সন্ত্রাসীরা যদি পাকিস্তানে থাকে, তাহলে তাদের সেখানে ঢুকেই মারব।”

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, যদিও ‘অপারেশন সিন্দুর’ নীতিগতভাবে চলমান, এর মানে এই নয় যে সামরিক সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। “এই মুহূর্তে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। ফলে সামরিক দিক থেকে অভিযানটি স্থগিত রয়েছে,” বলেন জয়শঙ্কর।

তিনি জানান, ১০ই মে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী হটলাইন মারফত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয় এবং ভারত তাতে সাড়া দেয়।

জয়শঙ্কর দৃঢ়ভাবে বলেন, “আমরা সবাইকে—শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়—এই কথা পরিষ্কার করে দিয়েছি, যদি পাকিস্তান যুদ্ধ থামাতে চায়, তাহলে তাদের সরাসরি আমাদের বলতে হবে। তাদের সেনাপ্রধানকে আমাদের সেনাপ্রধানকে ফোন করতে হবে। এবং সেটাই হয়েছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি প্রসঙ্গে, যে তিনি নাকি ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছেন, জয়শঙ্কর তা নস্যাৎ করে বলেন, “এটি পুরোপুরি আমাদের ও পাকিস্তানের মধ্যকার বিষয়। আমরা দ্বিপাক্ষিকভাবে এটি মোকাবিলা করতে চাই।”

তিনি তির্যক ভঙ্গিতে বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল তাদের নিজের দেশে,” বোঝাতে যে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কেবল উদ্বেগ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

তিনি আরও বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ভারতীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও, তারা শুধু উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কোনো ধরনের মধ্যস্থতা করেননি।

কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে জয়শঙ্কর বলেন, “কাশ্মীর ভারতের অংশ এবং কোনো দেশ নিজের ভূখণ্ড নিয়ে আলোচনায় বসে না। পাকিস্তান ১৯৪৭-৪৮ সাল থেকে যে অঞ্চলের অবৈধ দখল করে রেখেছে, সেটি তারা কবে ছাড়বে, সে বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।”

তিনি স্পষ্ট করেন যে, কাশ্মীরের প্রশাসনিক কাঠামো বা নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) কোনো আলোচনার বিষয় নয়। “এটি হতে হবে একটি গুরুতর আলোচনা এবং কেবল ভারত ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যে। কিন্তু আমাদের ভূখণ্ড নিয়ে আমরা কোনো সমঝোতা করব না,” তিনি জোর দিয়ে বলেন।

Visited 63 times, 1 visit(s) today