নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ৯ই মে, ২০২৫ঃ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নেতা আবদুল হামিদের বিদেশ গমন নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও আক্রমণাত্মক প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার (৯ মে) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ড. আসিফ নজরুল জানান, আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ সদর থানায় গত ১৪ জানুয়ারি একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও ওবায়দুল কাদেরের নামও রয়েছে।
ড. আসিফ নজরুল স্পষ্ট করেন, খুনের মামলার আসামি আবদুল হামিদের বিদেশ গমনে বাধা দেওয়ার দায়িত্ব পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার, যা আইন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারের বাইরে। তিনি বলেন, “আমার মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিম্ন আদালতের বিচারকরা রয়েছেন। বিচারকদের কাজ বিমানবন্দর পাহারা দেওয়া বা কারও চলাচলে বাধা দেওয়া নয়।” তবে এই ব্যাখ্যা সমালোচনার ঝড় থামাতে পারেনি। অনেকে মনে করছেন, আইনের অপব্যবহার করে ক্ষমতার স্বার্থে এই ঘটনায় নীরব ভূমিকা পালন করছে সরকার।
এদিকে, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণের বিষয়ে আইন উপদেষ্টার ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে। ড. আসিফ জানান, আইসিটি আইনে সংগঠন নিষিদ্ধকরণের বিধান তাঁর খসড়ায় ছিল এবং তিনি নিজেই উপদেষ্টা পরিষদে এটি উত্থাপন করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমার খসড়ার বিরোধিতা আমিই করবো, এটা কীভাবে সম্ভব?” তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণে উপদেষ্টা পরিষদে কোনো দ্বিমত নেই, তবে পদ্ধতি নিয়ে ভিন্ন মত থাকতে পারে। আইসিটি আইন ছাড়াও সন্ত্রাস দমন আইনসহ অন্যান্য আইনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, আইনের আশ্রয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের চেষ্টা কি ক্ষমতার অপব্যবহারের নতুন রূপ? আইন উপদেষ্টার বক্তব্য এই বিতর্ককে আরও জটিল করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি বা বিচারিক আদালতের রায়ের অপেক্ষায় আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণের বিষয়টি এখন সময়ের হাতে।
